১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনার্থে অস্থায়ীভাবে নির্মিতব্য শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। মিশিগানের হ্যামট্রামিক সিটি প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের যুসমান পার্কে অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকার পরেও কনকনে শীতের রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে অস্থায়ী শহীদ মিনারে জড়ো হন হ্যামট্রামেক সিটি প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাসহ দেশীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এখানে বসবাসরত বাংলাদেশীরা।
রাত ১২টায় ১ মিনিটে ২১ শে ফেব্রুয়ারীর জন্য নির্মিতব্য অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন হ্যামট্রামেক সিটি প্রশাসন, মিশিগান স্ট্যাইট আওয়ামীলীগ, মিশিগান মহানগর আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল মিশিগান শাখা,বাংলাদেশ এসোসিয়েশসন অব মিশিগান, জালালাবাদ সোসাইটি অব মিশিগান, বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংকৃতিক সমিতি অব মিশিগান, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অব মিশিগান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, গোলাপগঞ্জ সমিতি মিশিগান, হবিগঞ্জ জেলা এসোসিয়েশ অব মিশিগান, শেখর বাংলা স্কুল অব মিশিগান, সিলেট সদর দক্ষিন সুরমা এসোসিয়েশন অব মিশিগান, আসাল মিশিগান চ্যাপ্টার, খাজা ট্রাস্ট অব মিশিগান সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে হ্যামট্রামেক সিটির একটি রেস্টুরেন্টে অস্থায়ীভাবে নির্মান করা হয় আরেকটি শহীদ মিনার। সেখানেও মিশিগান স্ট্যাট যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। হ্যামট্রামেক সিটির প্রশাসনের নির্মিতব্য অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সহ বাংলাদেশীরা একসাথে গেয়ে উঠেন ‘‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’’।
জানা যায়, মিশিগানের ওয়েইন স্ট্যাট ইউনিভার্সিটি তে অস্থায়ীভাবে নির্মিতব্য শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (বিএসএ) নেতৃবৃন্দ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট- ৪ এর স্ট্যাট রিপ্রেজেনটেটিভ আব্রাহাম আয়াশ।
তিনি বলেন, নিজ মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন আজকের দিনে আমি তাদেরকে স্মরন করছি। আমি মনে করি এটা একটা জাতির জন্য অনেক বড় পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে কথা বলতে পারছি তার জন্য আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
হ্যামট্রামেক সিটি মেয়র আমির গালিব বলেন, এখানে বসবাসরত বাংলাদেশীরা নিজ ভাষার জন্য স্বীকৃত আন্তর্জাকিত মাতৃভাষা দিবস পালন করছেন আমি আমার সিটি প্রশাসন থেকে সকল শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।আপনারা নিজের ভাষা ও স্বংকৃতিকে প্রবাসে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সেটা অনেক বড় প্রাপ্তি। সিটি প্রশাসন প্রতি বছর আপনাদের এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে সার্বিক সহযোগিতা করবে।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক সিটি মেয়র ক্যারন মায়েস্কি,সিটি ম্যানাজার ক্যাথলিন এনজেরার ,সিটি কাউন্সিলম্যান এডাম আলবারম্যাকি ও আমান্ডা জেকোয়েস্কি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হ্যামট্রামেক সিটি কাউন্সিলম্যান নাইম লিয়ন চৌধুরী ও সাবেক কাউন্সিলম্যান আবু আহমেদ মুসা।উল্লেখ্য,হ্যামট্রামেক সিটিতে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এই বছরের মধ্যেই স্থায়ী শহীদ মিনারটি নির্মান করা হয়ে যাবে।




আশিক রহমান, মিশিগান (যুক্তরাষ্ট্র)



