সিলেট সদর উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর ২৪ শতক ভূমি আদালতের মাধ্যমে ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত মালিক।
বুধবার (১৫জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার সাহেবের বাজারে জমির মালিক আকরাম উদ্দিনকে বুঝিয়ে দেন আদালতের প্রতিনিধিদল।
আদালত সূত্র জানা যায়, আদাল নালিশী ভূমিতে নিজের স্থায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাদী মো.আকরাম উদ্দিন সিলেটের মাননীয় সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছিলেন। আদালত ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি ও ৬ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ আদালত বাদীর পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ একই এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে সাঈদ আলী গংরা এই রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে সিলেট জেলা জজ আদালতে স্বত্ব আপীল মামলা নং- ৬৮/২০২০ দায়ের করেন। মামলাটি পরবর্তীতে নিষ্পত্তির জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ ১ম আদালতে স্থানান্তরিত হয়। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর রায় ও ২৩ নভেম্বর ডিক্রি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিবাদীপক্ষের আপীল নামঞ্জুর করা হয়। আপীল নামঞ্জুর হওয়ার পর বিবাদীপক্ষ মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি সিভিল রিভিশন নং- ৩৮২৯/২০২২ দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতে প্রাথমিক অবস্থায় নালিশা ভূমিতে স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুতরফা শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত রুল ডিসচার্জ করেন এবং স্থিতাবস্থার আদেশ ভ্যাকেট (প্রস্থান) করে সিভিল রিভিশনটি নিষ্পত্তি করে দেন। হাইকোর্ট বিভাগের এই আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের মূল রায় ও ডিক্রি বহাল থাকে। মূল মোকদ্দমার রায় ও ডিক্রির কার্যকারিতা বাস্তবায়নের জন্য চলতি বছরের ১০ মার্চ মামলার বাদী মো.আকরাম উদ্দিন বিচারিক আদালতে দরখাস্ত দাখিল করেন।
উচ্চ আদালতের সেই চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জমিটি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন। এরপর সীমানা নির্ধারণের জন্য লাল পতাকা গেড়ে দিয়ে বাদীর পক্ষে ভূমির দখল ও নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, আদালতের প্রতিনিধিদল সকালে এসে জমির পরিমাপ করেন। পরে লাল নিশানা টানিয়ে তার ভূমি বুঝিয়ে দিয়েছেন আদালতের লোকজন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ, বিবাদী সাঈদ আলী, আদালতের প্রতিনিধি দলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ভূমির মালিক আকরাম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন পর আমি আমার জায়গায় আদালতের রায়ের মাধ্যমে পেয়েছি। আমি আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট ও আমি আনন্দ।
সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ বলেন, আমরা এখানে মূলত আদালতের চূড়ান্ত আদেশটি শতভাগ বাস্তবায়ন করার জন্য এসেছি। কোর্ট কমিশনার এবং মামলার উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে জায়গা মেপে ও পতাকা দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করে বাদীকে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



