সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে কানাডাপ্রবাসী ইসলামি বক্তা মাওলানা ফুরহাতুল হক চৌধুরীর বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে বাড়ির বিভিন্ন অংশ তল্লাশি করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুরহাতুল হক চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ।
ফুরহাতুল হক চৌধুরীর পিতা আহবাবুল হক চৌধুরী জানান, অভিযানের সময় দায়িত্বরত সদস্যরা তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তা জানতে চান, ফুরহাতুল হক চৌধুরী বা তাঁদের পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।
জবাবে তিনি দাবি করেন, তাঁর ছেলে একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও সুপরিচিত ইসলামি বক্তা এবং তাঁদের পরিবারের কোনো সদস্যই কোনো উগ্রবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি আরও জানান, ফুরহাতুল হক চৌধুরী বর্তমানে স্ত্রীসহ কানাডায় অবস্থান করছেন।
আহবাবুল হক চৌধুরীর দাবি, অভিযান শেষে তাঁকে সতর্ক করে বলা হয়, ফুরহাতুল সম্পর্কে কোনো তথ্য গোপন করা হলে পরিবারের সদস্যদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে । একই সঙ্গে তাঁকে প্রতি সপ্তাহে বালাগঞ্জ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া বলেন, জাতীয় সংসদসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশনার আলোকে সারা দেশে সন্দেহভাজনদের তথ্য যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী সন্দেহভাজন উগ্রবাদী কার্যক্রম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকায় ফুরহাতুল হক চৌধুরীর নাম রয়েছে। এ কারণে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের সময় ফুরহাতুলের পিতার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ তিনি নাকচ করেন। অবশ্য তিনি স্বীকার করেন যে, সন্দেভাজন উগ্রবাদে সংশ্লিষ্টদের এই তালিকা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরী করা।
পুলিশের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আহবাবুল হক চৌধুরী দাবি করেন, তাঁর ছেলে কোনো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় মাহফিলে বক্তব্য প্রদান এবং আলেম-ওলামাদের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিগত সরকারের সময়ে সন্দেহভাজন উগ্রবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁর ছেলের ওপর হামলা, অপহরণের চেষ্টা, হত্যার হুমকি এবং পুলিশি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে তাঁদের অভিযোগ। এসব ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে ২০২৪ সালে তিনি স্ত্রীসহ কানাডায় চলে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওলানা ফুরহাতুল হক চৌধুরী গহরপুরের হযরত শাহ সুলতান (রহ.) মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশ ও ওয়াজ মাহফিলে নিয়মিত বক্তব্য দিতেন এবং ইসলামী যুব আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।




বালাগঞ্জ প্রতিনিধি



