মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

সরকারবিরোধী আন্দোলনের জের বালাগঞ্জে মাওলানা ফুরহাতুলের ওপর হামলা ও কিডন্যাপের চেষ্ঠা, ইটভাটায় পুড়িয়ে মারার হুমকি

  • প্রকাশের সময় : ২৯/০৯/২০২৩ ০৫:৫৩:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহীত
Share
2

সিলেটের জনপ্রিয় তরুণ ইসলামি বক্তা মাওলানা ফুরহাতুল হক চৌধুরীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩) বিকেল ৪টার দিকে বালাগঞ্জ লতিফিয়া মাদ্রাসার সামনে। প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, উপস্থিত লোকজনের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ায় সম্ভাব্য অপহরণ থেকে তিনি রক্ষা পান। পরে দলীয় কর্মীরা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।



অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই প্রভাবশালী এক যুবলীগ নেতা ফোন করে মাওলানা ফুরহাতুলকে ইটভাটায় পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গতকাল দুপুরে বালাগঞ্জ লতিফিয়া মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত একটি ধর্মীয় মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন মাওলানা ফুরহাতুল হক চৌধুরী। মাহফিলে বক্তব্য শেষে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার সময় গেটের সামনে একদল হামলাকারী অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দলীয় কর্মী এবং মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


ইসলামি যুব আন্দোলনের নেতা মাওলানা মোহাম্মাদ বদরুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, হামলাকারীরা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী। তাঁর দাবি, বালাগঞ্জের যুবলীগ নেতা সালেহ আহমদের নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে মাওলানা ফুরহাতুল বর্তমানে পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। একজন আলেমের ওপর এ ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।


লতিফিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল মালিক বলেন, মাওলানা ফুরহাতুল হক চৌধুরী অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তাঁর দাবি, মাহফিলে সরকারের কথিত ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়।


আজ সকালে মাওলানা ফুরহাতুল হক চৌধুরী মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, মাহফিলে সরকারের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় তাঁর ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত জুলাই ও আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁর কর্মস্থল মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে ফোন করে তাঁকে চাকরিচ্যুত করার জন্য চাপ দেন এবং তা না করলে সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তাঁর আরও অভিযোগ, বালাগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা তাঁর বাবাকে হুমকি দিয়ে বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন বন্ধ না করলে তাঁকে গুম করা হবে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও সরকারদলীয় কর্মীদের হামলারও শিকার হন বলে তিনি দাবি করেন।


মাওলানা ফুরহাতুল আরও বলেন, হামলার পর রাতে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সামস উদ্দিন তাঁকে ফোন করে বলেন, "আজ বেঁচে গেছো।" তাঁর দাবি, ওই ফোনালাপে সরকারবিরোধী বক্তব্য বন্ধ না করলে তাঁকে ইটভাটায় পুড়িয়ে হত্যা এবং তাঁর বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতে বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথা হয় এবং তিনি সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে তাঁর দাবি।


মাওলানা ফুরহাতুল হক চৌধুরীর ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদিউজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, "এই মাওলানা বিতর্কিত লোক, সারাক্ষণ সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে।" তবে তিনি বলেন, কারও ওপর হামলা কাম্য নয়। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


মাওলানা ফুরহাতুল হক চৌধুরী গহরপুরের হযরত শাহ সুলতান (রহ.) মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন ইসলামি যুব আন্দোলনের সিলেট জেলা শাখার দাওয়াত ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক। সিলেট অঞ্চলে তিনি ‘কোকিল কণ্ঠী সুলতানী হুজুর’ নামে পরিচিত। মাহফিলে কুরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাসভিত্তিক সুললিত বক্তব্য, আলেম-ওলামাদের ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদ এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনামূলক বক্তব্যের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট বিভাগে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।


সিলেট প্রতিদিন / এআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স