অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, হার না মানা- কী বলা যায়এই জয়কে! প্রায় হারতে সবসা এক ম্যাচ অকল্পনীয় জিতে গেছে মেসির আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে তাই বলাই যায়- এভাবেও জিতে যাওয়া যাওয়া যায়!
ম্যাচের শুরুতে মিসরের গোল। স্তব্ধ আকাশি-সাদায় ছেয়ে যাওয়া গ্যালারি। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার জালে দ্বিতীয় গোল করে যেন ম্যাচের সমাপ্তি লিখে ফেলেছিল ফারাওরা। এরপর মেসিরা কামব্যাকের গল্প লিখেছেন। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর ৭৯ মিনিটের গোলের পর ৮৩ মিনিটে মেসি সমতাসূচক গোল করেন। যোগ করা সময়ে কামব্যাকের সমাপ্তি টানেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৩-২ গোলের জয়ে আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল তুলে নেন।
মঙ্গলবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৫ মিনিটে এমি মার্টিনেজকে ফাঁকে দিয়ে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠিয়ে দেয় মিসর। বক্সের বাহির থেকে দেওয়া ক্রসে দারুণ এক হেড করেন ডিফেন্ডার ইয়াসের ইব্রাহিম। ম্যাচের ২১ মিনিটে আর্জেন্টিনা ওই গোল শোধ করার সহজতম সুযোগ পেনাল্টি পেয়ে যায়। কিন্তু শট নিয়ে মেসি গোল করতে পারেননি।
প্রথমার্ধে এক গোলে পিছিয়ে, পেনাল্টি মিস, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের একের পর এক দুর্দান্ত সেভ।
তার পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোল হজম! দুই গোলে পিছিয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। পড়ে যায় বিদায়ের শঙ্কার মুখে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তারা। যারা শেষ মুহূর্তেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। রুদ্ধশ্বাস লড়াই উপহার দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শেষভাগে ৪ মিনিটের ব্যবধানে মেসি ম্যাজিকে ম্যাচে ফেরে তারা। দুই গোল শোধ দিয়ে সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের চেষ্টা বাড়াতেই কাউন্টারে অ্যাটাকে গোল হজম করে স্কালোনির দল। কিন্তু মিসরের দুর্দান্ত ওই কাউন্টার অ্যাটাকের গোলটি বিতর্কিত ফাউলের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়।
তবে ৬৭ মিনিটে মিসরের আরেকটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পাওয়া গোলে আর বাতিলের বাঁশি বাজাতে পারেননি রেফারি। নিজেদের অর্ধ থেকে বল টেনে আর্জেন্টিনার অর্ধে ঢুকে পড়েন মিসরের হাইসেম হাসান। বক্সে ফাঁকায় পাওয়া মোস্তাফা জিকোকে বল বাড়ালে জালে পাঠান তিনি।
প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে খেলা মিসর রক্ষণের দেয়াল উঁচু করে খেলতে শুরু করে। কিন্তু আর্জেন্টিনার আক্রমণের কাছে টেকেনি ফারাওদের পিরামিড। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে গোল করেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। কেপ ভার্দের বিপক্ষেও গোল করে দলকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি।
পাঁচ মিনিট পরেই বক্সের জটলা থেকে মেসি দুর্দান্ত এক শট নিয়ে দলকে সমতায় ফেরান। তখনো মনে হচ্ছিল ম্যাচ অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াবে। কিন্তু যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হেড থেকে জয় সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। যদিও গোল নিয়ে আছে বিতর্ক। ঠিক যেমন আলতো ফাউলের কারণে মিসরের করা দুর্দান্ত গোল বাতিল করা হয়েছে, নিজেদের বক্সে তেমনই এক ফাউল করে সালাহর পা থেকে বল কেড়ে গোল করেছে আর্জেন্টিনা। রেফারি ফাউল ডাকলে যেখানে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি খেত, সেখানে উল্টো গোল পেয়ে গেছে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা




স্পোর্টস ডেস্ক



