সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হিলালপুর ড্রিমল্যান্ড পার্ক এলাকায় ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হানিফ খানের নেতৃত্বে একদল যুবক হামলা চালিয়ে একজন ব্যবসায়ীর ফার্মেসি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কাজু আহমেদ ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, তার কলেজপড়ুয়া মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং, অপহরণের চেষ্টা এবং এসব ঘটনার বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার চাওয়ার জের ধরেই চেয়ারম্যান আব্দুল হানিফ খান সহযোগী সন্ত্রাসীদের নিয়ে তার ‘তাহা মেডিসিন শপ’-এ হামলা চালান। এ সময় তারা দোকানের কর্মচারীকে মারধর করে বের করে দেন এবং ফার্মেসিতে তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে চলে যান।
ড্রিমল্যান্ড পার্ক এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চেয়ারম্যান আব্দুল হানিফ খান ৭–৮ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে ‘তাহা মেডিসিন শপ’-এ প্রবেশ করেন। এসময় তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থায় দোকানের মালিক কাজু আহমেদকে খুঁজতে থাকেন এবং তাকে পেলে টুকরো টুকরো করে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা যুবকেরা দোকানের ওষুধপত্র তছনছ করে এবং কর্মচারী ইকবাল হোসেনকে চড়-থাপ্পড় মেরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দোকান থেকে বের করে দেয়। পরে চেয়ারম্যান নিজেই দোকানে তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে চলে যান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এর আগে গত ৩ আগস্ট চেয়ারম্যানের অনুসারী সন্ত্রাসীরা কাজু আহমেদের কলেজপড়ুয়া মেয়ে মারজানা আহমেদ মিমকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। আশপাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে তারা ব্যর্থ হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরও আগে মেয়েটিকে দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং ও নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল।
এদিকে গত ২০ আগস্ট একই যুবকরা কাজু আহমেদের হিলালপুর পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারেও হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় জীবন বাঁচাতে কাজু আহমেদ পাশের সুরমা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। হামলাকারীরা খামারের অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ফার্মেসি বন্ধ করে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে কাজু আহমেদ বলেন, “গত জুলাই মাসে ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একজন সেবাপ্রার্থীকে চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে মারধর করেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে হেতিমগঞ্জ বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে আমি বক্তব্য দিই। এরপর থেকেই চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একের পর এক আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয় এবং কলেজ থেকে ফেরার পথে আমার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এসব ঘটনার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করার পর চেয়ারম্যান আমাকে একাধিকবার ফোন করে হত্যার হুমকি দেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। প্রাণভয়ে আমি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছি।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাজু আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, “মেয়েকে অপহরণের চেষ্টার পর আমি গোলাপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর থেকেই সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান আব্দুল হানিফ খান এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি



