সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার শত্রুমর্দন বাগেরকোনা গ্রামের উজির মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তিন সদস্যের মেডিকেল টিম নিহত উজির মিয়ার ময়নাতদন্ত করেন।
পরে বিকেল ৩ টায় উপজেলার পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে বাগেরকোনা গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এঘটনায় মৃত উজির মিয়ার স্বজনরা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে গরু চুরির এক মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে নিজ বাড়ি থেকে নিহত উজির মিয়াকে গ্রেফতার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) আদালত থেকে জামিন পেয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। পরে ২১ ফেব্রুয়ারী সকালে উজির মিয়া পুনঃরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর দুপুরে নিহত উজির মিয়ার মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা পুলিশের নির্যাতনে উজির মিয়ার মৃত্যুর অভিযোগ করে পাগলা বাজারে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভে অংশ নেন। প্রায় ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সুবিচারের আশ্বাসে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এদিকে জানাজা শুরুর আগে উজির মিয়া হত্যার সুবিচারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম, শান্তিগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হেকিম, সহকারী পুলিস সুপার (এএসপি) শুভাশিস ধর, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজি মুক্তাদির হোসেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিন, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের রাজনৈতিক সচিব মো. হাসনাত হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা তেরাব আলী, উপজেলা তাঁতীলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।




শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি



