মশাহিদ আলী : বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আসর হচ্ছে বিপিএল। রাজধানী শহর ঢাকা থেকে শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এই টুর্ণামেন্ট। গড়িয়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও। সেখান থেকে আবারো ঢাকায়। আর ঢাকা থেকে ক্রিকেট ফিরলো চায়ের শহর সিলেটে। দুয়ে আর দুয়ে চার যে হয়েছে অনেক আগেই। বলছি চট্টগ্রাম পর্বের কথা।২৯ জানুয়ারি বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর মাত্র তিন ঘন্টা আগেই মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয় নাঈম ইসলামকে।
চলতি বিপিএলে বির্তকের শুরুটা মূলত ক্যাপ্টেন্সি থেকে মিরাজকে বাদ দেওয়া নিয়ে। এরপর তো চট্টগ্রাম পর্বে হুট করেই জানা যায় টাকা না পেলে সিলেটের হয়ে খেলবেন না তাসকিন আহমেদ। পরবর্তীতে তাসকিন জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণেই নাকি এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের তৎপরতায় সেটি সমাধান হয়।
তবে সিলেট নিয়ে আলোচনা শেষ হয়নি। যখন বিপিএল নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। তখন নতুন করে আলোচনায় আবারো যোগ হলো বিপিএলের সিলেট পর্ব।
সোমবার (৭ফেব্রুয়ারি) দিনের শেষ ম্যাচ ছিল সিলেট সানরাইজার্স ও খুলনা টাইগার্সের। আর এই ম্যাচ ঘিরে ঘটেছে সিলেট পর্বের নানান ঘটনা। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে দলের অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জায়গায় দায়িত্ব দেয়া হয় রবি বোপারার হাতে।
যদিও টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, মোসাদ্দেক অধিনায়কত্ব করতে চাননি বলেই তাকে বাদ দিতে হয়েছে। তার বদলে খুলনার বিপক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন রবি বোপারা।
সিলেটের মাঠে সিলেট সানরাইজার্সের ম্যাচ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। ইংলিশ এই অলরাউন্ডার সিলেটে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে অনেক প্রশ্ন রেখে গেছেন।
প্রথমত, দলের নিয়মিত অধিনায়ক মোসাদ্দেক না এসে টস করতে আসেন তিনি নিজে। যেকোনও পরিস্থিতিতে হুট করে এমন দৃশ্য দেখা বিস্ময়কর। কারণ সিলেট দল থেকে আগে জানানো হয়নি তাদের অধিনায়ক বদলের কথা। তবে হ্যাঁ, ম্যাচের আগে অধিনায়ক বদল নতুন কোনও ঘটনা নয়। চলতি বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স নিজেদের মাঠে অধিনায়ক বদল করেছিল। সিলেটও হাঁটলো সেই পথে।
সিলেটের টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, মোসাদ্দেক নাকি নিজের পারফরম্যান্সে ফোকাস করতেই অধিনায়কত্ব করতে চাইছেন না। ফলে বোপারার কাঁধেই তুলে দেওয়া হয়েছে অধিনায়কের গুরু দায়িত্ব।
একই দিন সিলেট ও খুলনার মধ্যকার ম্যাচে টস শুরুর আগে জানা যায় ইনজুরিতে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন তাসকিন। সানরাইজার্সের ফিজিও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর পিঠে যন্ত্রণার অবস্থার অনেকটা উন্নতি ঘটেছে। তবে সামনেই যেহেতু আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ রয়েছে, তাই দল তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
ফলে সিলেটের হয়ে বিপিএলের পরবর্তী টানা তিন ম্যাচ খেলতে পারবেন না তাসকিন। তার বদলে সুযোগ পান ঘরোয়া ক্রিকেটে অল্পবিস্তর অভিজ্ঞতা থাকা একেএস স্বাধীন। দলে সুযোগ পাওয়া স্বাধীন প্রথম ম্যাচেই নেমে পড়লেন মাঠে। যদিও আবার এমনও হতে পারে, টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনাতে স্বাধীন আগেভাগেই ছিলেন।
তাছাড়া হঠাৎ নেতৃত্ব পাওয়া বোপারা ম্যাচে এমন দুটি ঘটনা ঘটিয়েছেন,যা সন্দেহ করার জন্য যথেষ্ট। ম্যাচের প্রথম ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বল টেম্পারিং করেছেন বোপারা।নখ দিয়ে খুঁটে বল বিকৃতি করার তার চেষ্টা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আম্পায়ারদেরও চোখ এড়ায়নি ঘটনাটি। ফলে পেনাল্টি হিসেবে ৫ রান দেওয়া হয় প্রতিপক্ষ খুলনাকে। ঘটনা এখানে শেষ হতে পারতো, কিন্তু আবারও সন্দেহজনক কাজ করেছেন বোপারা।
প্রথম ইনিংসের ১৬তম ওভারের ঘটনা। মুশফিকের বিপক্ষে বল ডেলিভারি করার আগেই বোপারার কোমড়ে থাকা রুমাল মাটিতে পড়ে যায়।এইতো গেলো ঘরের মাঠে সিলেট সানরাইজার্সের কথা।
এবার আসি সিলেট পর্বে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কথায়। নিজেদের মাঠের একই ঘটনা ঘটিয়েছে সিলেটেও। প্রথমে চট্টগ্রামে যাওয়ার পর মেহেদি হাসান মিরাজের জায়গায় অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছিল নাইম ইসলামকে। কিন্তু মাত্র চার ম্যাচ পর দলের এই ক্রিকেটারের প্রতিও আস্তা রাখতে পারেনি চট্টগ্রাম। বলা হচ্ছে নাঈমের বাজে ফর্মের কারণে এমনটা হয়েছে। আসলে কী তাই?
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচ মঙ্গলবার (৮ফেব্রুয়ারি) খেলতে নেমে নাইম ইসলামের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার আফিফ হোসেন ধ্রুবকে।
অধিনায়কত্ব হারিয়ে দল থেকেও বাদ পড়েছেন নাইম। টসের সময় আফিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নাইমের কোনো ইনজুরিজনিত সমস্যা আছে কি না। তিনি নিশ্চিত করেন, ইনজুরি সমস্যা নেই, তবে দলে নেওয়া হয়নি নাইমকে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের টিম ম্যানেজার ফাহিম মুন্তাসির সুমিত জানিয়েছেন নাইমের বাজে ফর্মের কথা, নাইমের তো ফর্ম ভালো যাচ্ছিল না। তাই দল থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অধিনায়ক বদলে। এখন আফিফই আমাদের অধিনায়ক।
বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকালে দেখা যাবে শেষের দুইয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আর একেবারের সবার শেষে রয়েছে সিলেট সানরাইজার্স। অথচ এই দুই দলের বিভিন্ন ঘটনা জন্ম দিচ্ছে অন্যকিছুর। তবে কী এবারের ৮ম আসরের বিপিএলে ফিক্সিংয়ের আভাস মিলছে। অভাসটা যেনো সত্য না হয় এমনটাই চান ক্রিকেটপ্রেমীরা।




মশাহিদ আলী



