শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

বিয়ানীবাজারের দলিত ব্যবসায়ীর আর্তনাদ: ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই আজ ঘরছাড়া’

  • প্রকাশের সময় : ২২/১০/২০২৩ ০৩:৩১:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহীত
Share
2

শামীম শাহেদ, বিশেষ প্রতিনিধি

বিয়ানীবাজারের দলিত মুসলিম ব্যবসায়ী মো. আলতাফ হোসাইন (৪৩) অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, চাঁদাবাজ চক্র এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের ধারাবাহিক হুমকি, হামলা ও নিপীড়নের কারণে তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।


সম্প্রতি এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে আলতাফ হোসাইন তার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। কথা বলতে গিয়ে কয়েকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার দাবি, বিয়ানীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম জুনু ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব দাবির প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।


আলতাফ মধ্য বিয়ানীবাজারে অবস্থিত ‘নিউ আলতাফ স্টোর’ নামে একটি মুদির দোকানের মালিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার নবাং গ্রামে।


অন্যদিকে, আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ ও তাদের একটি মসজিদে আর্থিক সহযোগিতা করার পর তিনি সিলেট জেলার জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং তার অনুসারীদের রোষানলেও পড়েন বলে অভিযোগ করেন। আলতাফের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে ‘কাদিয়ানী সমর্থক’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তার ওপর একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে।


আলতাফ বলেন, “আমি শুধু একজন ব্যবসায়ী হিসেবে শান্তিতে জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রভাবশালী রাজনৈতিক লোকজন ও ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের চাপের কারণে আজ আমি নিজের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।”


শৈশব থেকেই দলিত পরিচয়ের কারণে সামাজিক বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহু কষ্ট করে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর তার স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


তার অভিযোগ, চাঁদার দাবিতে অস্বীকৃতি, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন এবং হামলার বিচার চাওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি।


স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।


তবে এ বিষয়ে কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম জুনু, তার সহযোগী আসলাম এবং জামায়াত নেতা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য দিতে রাজি হননি।


সিলেট প্রতিদিন / এসএইচএস


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স