শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেটে সীমানা নির্ধারণ না করে বাসিয়া নদী পুনঃখননের সিদ্ধান্ত পাউবো'র!

  • প্রকাশের সময় : ০১/০৫/২০২৬ ১৯:০৭:৫৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের ছবি: সিলেট প্রতিদিন।
Share
146

সিলেটের পাঁচটি উপজেলা দিয়ে বহমান একটি নদীর নাম হচ্ছে বাসিয়া নদী। সিলেট সদর উপজেলার মাশুকগঞ্জ বাজারস্থ সুরমা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর হয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার বরাক বিলে গিয়ে মিলিত হয়েছে সাড়ে ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই নদীটি।এক সময়ের খড়স্রোত ছিল এই বাসিয়া নদী। এখন দখল, দূষণ আর ভরাট হয়ে নদীটি খালে পরিণত হয়েছে। নদীটি ভরাট হয়ে সরু হওয়ায় বর্ষায়ও নদীতে পানির প্রবাহ থাকে না


সম্প্রতি জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে এই বাসিয়া নদী পাড়ের কৃষক ও জনগনের কথা বিবেচনা করে সরকারি ভাবে খন্ডখন্ড ভাবে পাঁচটি উপজেলায় নদীটির প্রায় ২৩ কিলোমটিার পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১২কোটি টাকা। বিষয়টি জানিয়েছেন সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (কাজের এসও) জাহাঙ্গীর সেলিম।


শনিবার (২মে) সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে।


১৯৭৭ সালে এখানে প্রথম খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ইতোমধ্যে খনন কাজস্থলে সকল প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। তাই নদী পাড়ের কৃষকসহ জনসাধারণের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।মূলত বাসিয়া নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ানোর জন্য এই খনন কাজ করা হবে। আর এই বাসিয়া নদী খনন করা হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক প্রত্যক্ষ এবং ২ লাখ ৫০ হাজার কৃষক পরোক্ষ ভাবে উপকৃত হবেন।


তবে এখনও নদীর সীমানা নির্ধারণ করেনি সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড! ভরাট হয়ে সরু হওয়া বাসিয়া নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ না করেই উৎসব মুখসহ চারটি স্থানে খন্ড খন্ড ভাবে খনন কাজের উদ্বোধন করা হবে।


এনিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে? তাদের মতে নদীর অতীত সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে নদীর মূল পাড় শনাক্ত না করে খনন কাজ করা হলে নদীর অবশিষ্ট ভূমি চলে যাবে দখলবাজদের হাতে। ফলে ভবিষ্যতে নদীটি চিরতরে বিলীন হয়ে পড়বে। তাই তাদের দাবি- নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ করে নদীর পাড় শনাক্তের মাধ্যমে খনন কাজ করা হলে ফিরে আসবে নব্যতা। বাড়বে পানির প্রবাহ।


জানতে চাইলে লামাকাজী ইউনিয়নের চার বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কবির হোসে ধলা মিয়া বলেন, নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ না করে নদী খনন করা হলে কোনো উপকারে আসবে না। এটা হবে যে লাউ সেই কদু। আর নদীর সীমানা নির্ধারণ করে খনন করা হলে জনগণের উপকারের পাশাপাশি নদীর নাব্যতাও ফিরে পাবে।


জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের তদারকি কর্মকর্তা (এসও) জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, এখনও নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ করা সম্বব হয়নি। তবে তিনি মানুষের মুখে মুখে শুনেছেন এই বাসিয়া নদীর কোথাও ৩৩ মিটার আবার কোথাও ৩৫ মিটার রয়েছে। বর্তমানে যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থাতেই খনন কাজ শুরু করা হবে বলে জানান।


সিলেট প্রতিদিন / আরজে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স