সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা-লামাকাজি সড়কের পাশ থেকে কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক কন্যা শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১টার দিকে রামপাশা-লামাকাজি সড়কের ধলিপাড়া পিচের মুখ নামক এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলায় মুক্তার মিয়া নামের এক সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক লামাকাজি থেকে ফেরার পথে হঠাৎ তার গাড়ি বিকল হয়ে যায়। এ সময় অন্ধকারে সড়কের পাশ থেকে ভেসে আসে নবজাতকের কান্নার শব্দ। পরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে সড়কের পাশে কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকা এক কন্যা শিশুকে দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করেন ।খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বিষয়টি সিলেট প্রতিদিনকে নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, রাতেই খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করি এবং তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।বর্তমানে শিশুটি সুস্থ ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কে বা কারা নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে আমরা খোজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটির যথাযথ নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য শিশুটিকে সিলেটের ‘ছোটমণি নিবাসে’ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি জানান, আমরা সবাই মিলেই নাম রাখলাম, ফাতেমা। শিশুটি সুস্থ আছে আলহামদুলিল্লাহ। আর আপনারা দোয়া করবেন, যে-ই পাক, যার কাছেই যাক, যেন ভালো মানুষ হয়। আর কাল রাত থেকে আমি এখন পর্যন্ত বিশ্বনাথের মানুষের ওর প্রতি যে ভালোবাসা দেখেছি, এখানকার মানুষ খুব ভালো। একটা বাচ্চার জন্য সবাই এক হয়ে গেছে কাল রাত থেকে। আসলে যারা এই কাজটা করেছে, ওখানে তো শিয়াল-কুকুর থাকতে পারত বা কোনো ক্ষতি হতে পারত। আমরা অক্ষত পেয়েছি, এটা আমরা আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া জানাচ্ছি।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



