শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

সিলেটে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের আ.শ.ঙ্কা

  • প্রকাশের সময় : ০৯/০৪/২০২৬ ১৩:২১:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
69

সিলেটে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পাম্প মালিকদের অভিযোগ- সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দূর্বল নীতির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের দাবী, সারাদেশে যখন জ¦ালানি সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন লেগে থাকছে, সেই মুহুর্তে সিলেটে তা দেখা যাচ্ছে না। সংকট মুহুর্তেও তারা গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য লুকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।


সিলেট বিভাগ পেট্রল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টিসহ জেলায় মোট ৭০টি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৮ লাখের উপরে চাহিদা ডিজেলের। বাকি আড়াই লাখ হচ্ছে পেট্রোল ও অকটনের। অর্ধেক জ্বালানি পাচ্ছেন তারা। তারপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখছেন। বর্তমান সংকটে কোনো অভিযোগ উঠছে না। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভুল নীতির কারণে ধীরে এই সংকট ঘনিভূত হচ্ছে।


ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটের ডিপোগুলোতে জ¦ালানি তেলের কোন সংকট নেই। তবে সরকারের দেয়া রেশনিং পদ্ধতির কারণে ডিপোগুলো পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ব্যবসায়ীদের দাবী রেশনিং পদ্ধতি তোলে নিলে সিলেটে কোন সংকট থাকবে না।


সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ সিলেটের অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়ে যায় অকটেন ও পেট্রোলের। ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে। অন্যদিকে সিলেটের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৬০০ ব্যারেল অকটেন, সাড়ে ৩ হাজার ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন এবং ডিজেল উৎপাদন হচ্ছে।


এমতাবস্ততায়, দেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ দেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও সংকটের দোহাই দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবী ব্যবসায়ীদের।


সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবারের মজুত তালিকায় দেখা গেছে সিলেটের ৩ ডিপোতে সর্বমোট মজুত রয়েছে, পেট্রোল ৭ লাখ ১২ হাজার লিটার, অকটেন ১ লাখ ৯১ হাজার লিটার এবং ডিজেল ১৩ লাখ ৬৯ হাজার লিটার।


ব্যবসায়ীদের দাবী, রেশনিংয়ের কারণে সিলেটের ডিপোগুলো থেকে সংশ্লিষ্টরা চাহিদা মতো তেল সরবরাহ করতে পারছে না। একই কথা বলছেন ডিপো সংশ্লিস্টরাও। সিলেটের যমুনা অয়েল লিমিটের সেলস্ অফিসার বেনজির আহমদ জানান, ডিপোতে তেল থাকলেও সরকার নির্ধারিত রেশনিংয়ের বাইরে তেল দেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স