শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

আইসিসিআর-এর ৭৭ বছর: সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের বর্ণাঢ্য আয়োজন

  • প্রকাশের সময় : ০৯/০৪/২০২৬ ০১:২৩:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহিত
Share
48

ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান ও সুপ্রতিষ্ঠিত সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন এক জাঁকজমকপূর্ণ, বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বুধবার) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত বিশিষ্ট  সাংবাদিক,  সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইসিসিআর-এর প্রাক্তন অ্যালামনাই এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, সম্প্রীতি ও ভারত-বাংলাদেশের গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের উজ্জ্বল প্রতিফলন।



অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য প্রদান করেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার জনাব অনিরুদ্ধ দাস। 


তিনি বলেন, “আইসিসিআর কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে এক দৃঢ় সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে ঐতিহাসিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক সম্পর্ক বিদ্যমান, তা আরও সুদৃঢ় করতে আইসিসিআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”


তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিসিআর-এর মাধ্যমে অসংখ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভারতের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব শিক্ষার্থী শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনই নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হয়ে একটি গভীর আন্তঃসাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা লাভ করছেন, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সবশেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইসিসিআর-এর প্রাক্তন অ্যালামনাইদের বিশেষভাবে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের জীবন্ত সেতু। আপনারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হবে।”


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক জনাব আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।


তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আইসিসিআর স্কলারশিপ প্রদানের জন্য তিনি ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের শিক্ষা সহযোগিতা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।


এছাড়া বক্তব্য রাখেন,শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাক্তন আইসিসিআর স্কলার জনাব ড. হিমাদ্রী শেখর রায় এবং প্রাক্তন আইসিসিআর স্কলার জনাব ড. প্রকৃতি মিশ্রা।


তারা উপস্থিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আইসিসিআর-এর দীর্ঘ পথচলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন।


তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইসিসিআর বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।


অনুষ্ঠানের শেষ দিকে,কয়েকজন প্রাক্তন অ্যালামনাই তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আইসিসিআর-এর বৃত্তি তাদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তারা ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি তারা এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে সংগীত ও পরিবেশনার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিলনধারা উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।


পরে আয়োজন করা হয় এক আন্তরিক মতবিনিময় পর্ব, যেখানে অতিথিরা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত বিনিময় করেন। 


সার্বিকভাবে, আইসিসিআর-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের এই আয়োজনটি ছিল অর্থবহ এবং সময়োপযোগী।


সিলেট প্রতিদিন / এসএল


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স