সিলেট নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ায় শ্রী শ্রী মদনগোপাল জিউ আখড়া প্রাঙ্গণে হনুমান পূজা ও মহোৎসবে হাজার হাজার ভক্তদের ঢল নেমেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ১৩ ফুট উচ্চতার হনুমান মূর্তিতে পূজা ও মহোৎসব শুরু হয়।
এ উপলক্ষে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকেন হনুমান ভক্তরা। এতে পুরো দাঁড়িয়াপাড়া এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বুধবার সকাল ৯টায় মঙ্গলঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে পূজা আরম্ভ হয়। সকাল ১০টায় হয় অঞ্জলি।
দিনভর চলে ভক্তিমূলক সংগীত, গীতাপাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা। দুপুর দেড়টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান হবে।
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ রামায়ণে হনুমান এক অসাধারণ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। তিনি ছিলেন ভগবান শ্রী রামের পরম ভক্ত এবং শক্তি, বুদ্ধি ও সাহসের এক অনন্য প্রতীক। সীতাকে উদ্ধারের জন্য তার লংকা যাত্রা, অগ্নিসংযোগ এবং লক্ষ্মণের প্রাণরক্ষার্থে গন্ধমাদন পর্বত বহন, এসব ঘটনা তাকে অমর করে রেখেছে ভক্তদের হৃদয়ে।
তার জীবনের মূল শিক্ষা হলো নিঃস্বার্থ ভক্তি, আত্মত্যাগ এবং ন্যায়ের পথে অটল থাকা। যা আজও সমাজের জন্য প্রাসঙ্গিক। বাঙালি সনাতন সংস্কৃতিতেও পূজিত হন হনুমান। হনুমান পূজা মানুষের জীবনে সাহস, সুরক্ষা এবং মানসিক শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। গ্রামবাংলার মন্দির, কীর্তন, যাত্রাপালা এবং রামায়ণভিত্তিক পালাগানে হনুমান চরিত্রটি শক্তি ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য অপূর্ব কুমার দাশ গণমাধ্যমকে বলেন, আজ হনুমান ভক্তদের ঢল নেমেছে দাড়িয়াপাড়ায়। সর্ববৃহৎ হনুমান প্রতিমায় পূজা করে সিলেট আজ নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। হাজারো ভক্তের সমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় আবেগ এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতিতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



