সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকার এক শিয়া সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী চাঁদাবাজি ও ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সৈয়দ শফিকুল ইসলাম (৩৫) জানান, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী ও এক ধর্মীয় নেতার অনুসারীদের দ্বারা তিনি দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন।
জানা যায়, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম সুবিদবাজার সুনামগঞ্জ রোড এলাকায় “মা স্টোর” নামে একটি মুদি ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনার শুরু থেকেই তাকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গতবছরের (২০২২ সাল) ২৬ জুন সিলেটের সৈয়দপুর এলাকায় একটি যুব সংগঠনের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আয়োজকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে তারা কর্মসূচি পণ্ড করে দেয় বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে ১০ সেপ্টেম্বর কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে দলের একটি অনুষ্ঠানের জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেন। ওই সময় চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে তিনি চাঁদা প্রদান করেন।
এর কিছুদিন পর ২১ সেপ্টেম্বর সিলেটের খাসদবির এলাকায় অবস্থিত জামেয়া মিলিয়া বালিকা মাদ্রাসায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এটি শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আরবাঈন উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই সময় স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনের এক নেতা মাওলানা শওকত আলী শেখ ও তার অনুসারীরা সেখানে এসে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয় এবং আয়োজকদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের ৩ ডিসেম্বর পুনরায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান ভাঙচুর করা হয় এবং তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শে তিনি ধার করে চাঁদা পরিশোধ করেন।
সৈয়দ শফিকুল ইসলাম চলতি বছরের (২০২৩ সাল) ১৮ মার্চ রমজান মাসে একটি এতিমখানায় দোয়া ও ইফতার আয়োজন করলে সেখানে কিছু উগ্রপন্থী ব্যক্তি এসে তাকে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার কারণে বাধা দেয় এবং শারীরিকভাবে আঘাত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর ২৫ মে স্থানীয় একটি শিয়া মসজিদে ধর্মীয় আলোচনা সভা চলাকালে অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ করে এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি দেখতে বাইরে গেলে শফিকুল ইসলামকে মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
১ আগস্ট কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা জামাতখানা এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের আশুরা শোভাযাত্রা চলাকালে কিছু লোক শোভাযাত্রার পথরোধ করে এবং হামলা চালায়। এ সময় সেখানে শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সৈয়দ শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, এসব ঘটনার পর তিনি বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতে গেলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি। বরং ধর্মীয় সংখ্যালঘু হওয়ায় তাকে অনেক সময় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




প্রতিদিন ডেস্ক



