ব্রাজিলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মো. রাশেদুজ্জামান (২৯) নামের এক যুবক দেশে ফেরার পর আহমদিয়া ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ায় ধারাবাহিকভাবে উগ্রপন্থী হামলা, হুমকি এবং হয়রানির শিকার হয়েছেন।
পরিবারসূত্রে জানা যায় যে, দেশে ফেরার পর রাশেদ স্থানীয় বিয়ানীবাজার আল সালাম আহমদিয়া মসজিদে দান ও সহায়তা শুরু করেন। জুলাই ২০২২ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আহমেদিয়া ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। প্রতিবেশী ও বন্ধুদের বরাত অনুযায়ী, এই খবর স্থানীয় উগ্রপন্থীদের নজরে আসে।
পরিবারসূত্রে আরও জানা যায়, মাওলানা আবদুল জব্বার-এর নেতৃত্বে কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্র তাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মৌলবাদী দুর্বৃত্তরা তার বিয়ানীবাজর নয়াগ্রামের বাড়িতে হামলা চালালে তার মা গুরুতর আহত হন এবং তাকে দুই দিন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা নিতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে জুমার নামাজের পর মাওলানা আবদুল জব্বার একটি ফতোয়া জারি করেন, যেখানে মো. রাশেদুজ্জামানকে কাফের ও অমুসলিম ঘোষণা করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই বছরের ১৯ জুলাই দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এরপর নিরাপত্তার কারণে তার মা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আগস্ট মাসে কিছু উগ্রপন্থীরা রাশেদের নানাবাড়ি বড়লেখায় গিয়ে তাকে খুঁজে না পেয়ে তাদেরও হুমকি দিয়ে যায়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মৌলবাদী উগ্রপন্থী সংগঠন যেমন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-এর তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে এসব উগ্রপন্থী সংগঠন দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। মৌলবাদী গোষ্ঠী এই দাবিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, উপাসনালয় ও সম্পত্তিতে সহিংস হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ মৌলবাদী চক্রের প্রভাবের কারণে পুলিশ প্রশাসনও আহমদিয়াদের নিরাপত্তা প্রদানে জোরালো কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো হয়রাণী করে থাকে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পুলিশ রাশেদের খোঁজে তার বাসায় যায় এবং জানায় যে, রাশেদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হলে জানা যায় যে ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিয়ানীবাজার থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের মতে, ধারাবাহিক হামলা, ফতোয়া, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশী হয়রানির কারণে রাশেদুজ্জামান বাংলাদেশে নিরাপদে বসবাস করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি কানাডায় অবস্থান করছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কামনা করছেন।




প্রতিদিন ডেস্ক



