শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

আপনাদেরকে তো মানুষ ’৭১ সালেই দেখেছে: জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান

  • প্রকাশের সময় : ২২/০১/২০২৬ ১৭:২৫:১৩
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহীত
Share
27

দেশে ফের ভোট চুরির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকার একটি মাঠে দেওয়া নির্বাচনী জনসভায় তিনি এমন অভিযোগ করেন।


সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “পত্রপত্রিকা তো কমবেশি সবাই পড়েন পড়েন না? ফেসবুক তো কমবেশি সবাই দেখেন দেখেন না? এই ফেসবুকে দেখেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে একটি সংবাদ; কী সেই সংবাদ? মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড নিয়ে মোবাইল নম্বর নিয়ে মা বোনদেরকে বিভ্রান্ত করছে একটি দল; দেখেছেন? একটি দল বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করছে।


“আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে এখন বর্তমানে আরেকটি রাজনৈতিক দল তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এখানে আজকে যারা উপস্থিত আছেন, আপনাদের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ করব এবং আপনাদের মাধ্যমে এই পুরো জেলার চারটি নির্বাচনি এলাকার যত ভাই-বোন, মুরুব্বী আছেন, যারা দাঁড়িয়ে আছেন- সকলকে আমি অনুরোধ করব, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সজাগ থাকার জন্য।


“কারণ এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং এরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকায় পড়েছি আমরা, সোশাল মিডিয়াতে দেখেছি যে ব্যালট পেপার তারা গায়েব করে দিচ্ছে; সব ব্যালট পেপার নিজেদের পক্ষ নিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ আবার ভোট চুরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে।”


বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “এখন ভাই এই যে দলটি সম্পর্কে সজাগ থাকতে বললাম; এই দল সম্পর্কে আরেকটি কথা বলি আপনাদের সামনে। কয়েকদিন যাবৎ আমরা কী দেখছি? আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা বিভিন্নভাবে মানুষকে কতগুলো কথা বলছে- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা এবং শুধু মিথ্যা কথাই নয়, গুনাহের কথা তারা বলছে। আসুন প্রথমে তাদের মিথ্যা কথা কী বলছে, সেটি আমরা দেখি- কী সেই মিথ্যা কথা?


“...১৯৭১ সালে এই মাটিকে এই মাটির সাথে রক্ত মিশিয়ে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বুকের রক্ত তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই যে দলটি সম্পর্কে আপনাদেরকে সজাগ থাকতে বলছি, আমরা দেখেছি তখন কী ভূমিকা ছিল তাদের। যদি তাদের ভূমিকা সেই সময় দেশের পক্ষে থাকত, যদি তাদের ভূমিকা সেই সময় দেশের জনগণের পক্ষে থাকত; তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হতে হতো না।”


জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ ’৭১ সালেই দেখেছে; ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। ’৭১ সালে মানুষ দেখেছে আপনারা কীভাবে দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারপরে লক্ষ লক্ষ মা বোনের সম্মানহানি হয়েছে ’৭১ সালে। দেশের মানুষ দেখেছে- আপনাদের ভূমিকার কারণে এদেশের লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন; অনেক মানুষ পঙ্গু হয়েছে। কাজেই আপনাদেরকে মানুষ আরও ৫০ বছর আগে দেখে ফেলেছে আপনাদের ভূমিকা কী।”


‘প্ল্যান’ তুলে ধরলেন তারেক রহমান
দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার দিন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরলেন মৌলভীবাজারের জনসভায়।


তিনি বলেছেন, “আমি একটানা ১৭ বছর পর যখন বিদেশ থেকে ফিরে এসেছি, একটি কথা বলেছিলাম- মনে আছে আপনাদের, আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলেছিলাম না? সেই প্ল্যানের অর্থ একটি অংশ হচ্ছে আমরা এদেশের বেকার যারা যুবক আছে; শিক্ষিত হোক, অল্প শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত- সকল মানুষের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। যাতে এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, শক্ত ভিত্তির ওপর যাতে এই মানুষগুলো দাঁড়াতে পারে।”


বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান।


তিনি বলেন, “যুব সমাজের যারা সদস্য, তরুণ সমাজের যারা সদস্য- তাদের শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নয়; আমরা তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবেও সক্ষম গড়ে তুলতে চাই। যেন আপনারা লন্ডনে যান, অথবা এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যান, অথবা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে যান; আমরা আপনাদেরকে ট্রেনিং দিয়ে পাঠাব; আপনাদেরকে সেই দেশের ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠাব, যাতে ওই দেশে গিয়ে আপনারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দ্রুত করতে পারেন।


“যাতে করে আপনাদের আয়-রোজগার যদি আপনারা কোনো রকম দক্ষ না হয়ে সে দেশে যান, আয় রোজগার কম হবে; কিন্তু যদি কোনো ট্রেনিং নিয়ে যান তাহলে কী হবে? রোজগার বেশি হবে না? আমরা সেই ব্যবস্থা এদেশের মানুষের জন্য করতে চাই।”


বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “এই এলাকায় তো ১৩০টির মতন চা বাগান রয়েছে, আছে না? এই চা বাগানের শ্রমিকরা বিশেষ করে নারী শ্রমিক যারা, তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হয়। তাদের যে আয় রোজগার হয়, সেটি তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।


“সেই সকল পরিবারকে, সেই সকল নারীদেরকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে আমরা হয় খাদ্য সহায়তা দেব অথবা তাদেরকে আমরা নগদ সহায়তা দেব যাতে করে তারা তাদের সংসার সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে পারে সুন্দর ভাবে চালিয়া নিতে পারে।


“প্রিয় ভাই-বোনেরা চা শ্রমিকরা যেমন পাবে, একইভাবে একজন দিনমজুর- তার স্ত্রীও সেই ফ্যামিলি কার্ড পাবে। একজন শ্রমিক, একজন কৃষক ভাই- তার স্ত্রীও এই ফ্যামিলি কার্ড পাবে।”


কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন তারেক রহমান। সেই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজিনদের সম্মানী দেওয়ার ভাবনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।


তিনি বলেন, “আমরা যেমন কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চাইছি। আমরা যেমন আমাদের মা বোনদের পাশে দাঁড়াতে চাইছি, আমরা যেমন আমাদের তরুণ সমাজ যুব সমাজের যারা বেকার, তাদের ট্রেনিং দেওয়ার মাধ্যমে, ভাষা শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে যেমন তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে যেমন চাচ্ছি; একইভাবে আরেক শ্রেণির মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাচ্ছি, তারা কারা?


“তারা আমাদেরই আপনজন, আমাদেরই নিকটজন। এই মানুষগুলো আমাদের দুঃখের সময় আমাদের সাথে থাকেন, সুখের সময়ও আমাদের সাথে থাকেন; জীবনেও আমাদের সাথে থাকেন, মৃত্যুর সময়ও আমাদের সাথে থাকেন। অর্থাৎ আমাদের বিভিন্ন সারা দেশে যে মসজিদ আছে, মাদ্রাসা আছে; সেখানকার খতিব সাহেবরা, সেখানকার ইমাম সাহেবরা- মোয়াজ্জেম সাহেবরা।

“আমরা এই মানুষগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানির ব্যবস্থা করতে চাই। যেন মসজিদের ইমাম সাহেব, খতিব সাহেব, মোয়াজ্জেম সাহেবরা আত্মসম্মান নিয়ে সম্মানের সাথে এই সমাজে বসবাস করতে পারেন।”


সিলেট প্রতিদিন / আরজে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি