বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

উদ্যোগ নিলেও থেমে নেই রশিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা

  • প্রকাশের সময় : ২৩/০২/২০২২ ১১:৪১:৪৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
14

মশাহিদ আলী: দ্রুত গতি ও ওভারটেক করে গাড়ি চালানো এবং অসেচতনতার কারণে মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুর এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮জন। সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার-রশিদপুরের মধ্যবর্তী এলাকাগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।ফলে ওই এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তবে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং শিগগিরই আরও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সিলেটের সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

সর্বশেষ ২১ফেব্রুয়ারি দুই ট্রাকের সংঘর্ষে গুরুতর আহত ৪জনসহ ৬জন আহত হয়েছেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরস্থ আলীনগর-সাবসেন রাস্তার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন-রুমেল আহমদ,জুমেল আহমদ,সুমন মিয়া ও জাহাঙ্গীর।অন্যান্য আহতরা হলেন চালক-বাবুল হোসেন ও দ্বিন ইসলাম (১৯)। তাদের বাড়ি ঢাকার কদমতলী থানা এলাকায়।

ওসমানী নগর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার নবকুমার বলেন, দক্ষিণ সুরমা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন দূরে হওয়ায় ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা এখানে এসে একটি ট্রাকের দুজনকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। চালক ঘুমে থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।

দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার।

গত১৪ফেব্রুয়ারি (সোমবার) ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের রশিদপুরস্থ তাজমহরম এলাকায় কার্ভাড ভ্যান-ট্রাক ওভারটেক করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এসময় ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।পরে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

একইভাবে গত বছরের (৯ ডিসেম্বর) দক্ষিণ সুরমার আলীনগর এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে পা থেঁতলে যায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হয় আরেকজন।

নিহত নুরুল বখত (৩৫) দক্ষিণ সুরমার সিলাম টিলাপাড়ার মৃত আকমল বখতের ছেলে। আহত একই বাড়ির বিরাই বখতের ছেলে সাহেল(২০)। তারা দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

এর আগে ওই বছরের (২০সেপ্টেম্বর) তাজমহরম গ্রামের রাস্তার সামনে প্রাইভেটকারের চাপায় বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

একই বছরের ৩ মার্চ রশিদপুর পয়েন্টে ত্রি-মুখী পয়েন্টে গোল চত্বর নির্মাণ, স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ, পয়েন্টের দুইপাশ প্রশস্থ করণ, যাত্রী ছাউনী ও রোড-সাইন স্থাপনসহ ৬ দফা দাবিতে রশিদপুর বাস্তবায়ন পরিষদ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে তিন উপজেলাবাসী মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে রশিদপুর পয়েন্টে স্পিড ব্রেকার স্থাপন ও সড়কের মোড়ে সাইনবোর্ড বসানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, লালাবাজার থেকে রশিদপুর পর্যন্ত মহাসড়কে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে ওভারটেক ও অসেচতনতার কারণে। সড়কের পাশে গ্রাম থাকায় অনেকেই সড়ক পারাপারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬লেনের কাজ দ্রুত চালুর দাবি জানিয়ে তারা জানান, লালাবাজার-রশিদপুর পর্যন্ত গাড়ির নির্ধারিত গতিতে চলাচলের বাস্তবায়ন ও মহাসড়কের সাথে যুক্ত গ্রামের রাস্তাগুলোতে জেব্রা ক্রসিংয়ের।

এব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র বিএম আশরাফ উল্ল্যা তাহের বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চলাচল ও ওভারটেকের কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। আমরা অতিরিক্ত গতির গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রশিদপুর পয়েন্ট থেকে ২-৩শ মিটারে দূরে সম্প্রতি সময়ে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। আমরা ইতোমধ্যে গতি ও ওভারটেকিংয়ের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। সড়কের বাঁকগুলোতে রোড স্টাড লাইট বসানো হয়েছে। মোটামুটি আমাদের দিক থেকে যেগুলো ব্যবস্থা নেয়ার সেগুলো নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেব্রাক্রসিং দিলে গাড়ির গতি কমবে না। আরেকটা উপায় থাকে স্প্রিড ব্রেকারের কিন্তু মহাসড়কে স্প্রিড ব্রেকারের কোনো নিয়ম নেই। তাই দেয়া যাচ্ছে না। তবে সামনে কাজের সুযোগ থাকলে এখানে আমরা ছোট ছোট রাম্বুল স্টিপসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। খুব শিগগিরই ওই এলাকায় জেব্রাক্রসিং ও রোর্ডসাইনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।


সিলেট প্রতিদিন / এমএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স