সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

এশিয়ার বৃহৎ শিমুল বাগানে বসেছে ফুলের মেলা

  • প্রকাশের সময় : ১০/০২/২০২২ ০৩:০২:৩২
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
14

জাদুকাটা নদীর তীরে ১০০ বিঘা জমিতে দোল খাচ্ছে সারি সারি শিমুলগাছ। বসন্তের আগমনে সেসব গাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে।

বসন্ত বাতাসে শিমুল ফুলের নৃত্যের নান্দনিক দৃশ্য দেখতে সেখানে প্রতিদিন ভিড় করছেন নারী-পুরুষ, শিশুসহ নানা বয়সী দর্শনার্থী। বসন্ত আসার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন।

তার আগেই বসন্তের হাওয়ায় আকুল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শিমুল বাগান। বাতাসে দোল খাচ্ছে বাগানের প্রতিটি শিমুলগাছ। সে হাওয়ায় ঝরে পড়ছে রক্তরাঙা লাল শিমুল ফুল।

পাহাড়ি নদী জাদুকাটার তীরজুড়ে এখন কেবল শিমুলের মুগ্ধতা। যেন রক্তরাঙা শিমুল সবাইকে জানাচ্ছে বসন্তের অগ্রিম অভিবাদন। দূরদূরান্ত থেকে শিমুল ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।শিমুল বাগান দেখতে আসা জামালগঞ্জের ইশতিয়াক আহমেদ শাওন বলেন,জাদুকাটা নদীর তীরে বাগানজুড়ে এ মুহূর্তে টগবগে লালফুল ফুটে আছে।কেউ যখন এত লাল ফুল একসঙ্গে দেখে তখন তার মধ্যে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। মনটা ভরে যায় স্নিগ্ধতায়। ছন্নছাড়া মানুষও এখানে এসে ভাবুক হয়ে যায়,প্রকৃতির প্রেমে পড়ে যায়। পলি রায় নামে এক দর্শনার্থী বলেন,এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগানে আজ ঘুরতে এসেছি। এখন সব গাছেই ফুল ফুটতে শুরু করেছে।আমি প্রতিবছর এখানে আসি।

খুবই ভালো লাগে লাল লাল ফুল দেখতে। এছাড়া এখানে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, বড়গোপটিলা আর জাদুকাটা নদীর সমন্বয়ে জায়গাটার সৌন্দর্য আরও বেড়েছে।মাথার ওপরে ফুটে থাকা ফুল ঝরে পড়ে কোথাও কোথাও লাল গালিচা তৈরি হয়েছে।

সৌন্দর্যের এ স্বর্গরাজ্যে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানান ফুল বিক্রেতা, ঘোড়াচালক ও ছবিয়ালরা। রাশি রাশি শিমুল ফুল পড়ে থাকে বাগান জুড়ে। শিশুরা ফুল কুড়িয়ে মালা তৈরি করে। দর্শনার্থীদের কাছে সেই মালা বিক্রি করে ১০ থেকে ২০ টাকায়। রূপকথার নায়কের মতো অনেকে ঘোড়ার পিঠে ছড়ে বাগানে ঘুরে বেড়ান। এতে আয়ের পথ তৈরি হয়েছে ঘোড়ার মালিক ও ছবিয়ালদের।

কথা হয় ঘোড়াচালক মো.আলী রাজের সঙ্গে। চার ভাই-বোনের সংসার, ঘোড়া চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চলে। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে ঘোড়ার নাম রেখেছেন সেলিম রাজ।

সেলিম রাজ দৌড়াতে পারে, পণ্যবাহী গাড়ি টানতে পারে। শিমুল-বাগানে ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে ঘোড়া চালাচ্ছেন তিনি। আগে বড়গোপটিলা ছিল।

সেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা গেছে। এখানে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করা যায়। তবে কয়েক দিন পরে এই আয় আরও বাড়বে বলে জানান তিনি। বিন্নাকুলি গ্রামের বাসিন্দা ছবিয়াল মো. মঈনুল ইসলাম। সারাদিন বাগানেই ক্যামেরা নিয়ে বসে থাকেন, কখন দর্শনার্থী আসবে আর তার ডাক পড়বে। এখন মোটামুটি ব্যস্ত তিনি।

দর্শনার্থীদের ছবি তুলে সারা দিন ব্যস্ত সময় পার করেন। ছবিপ্রতি পাঁচ টাকা করে নেন দর্শনার্থীদের কাছ থেকে।মঈনুল বলেন,এক সপ্তাহ ধরে বাগানে আসা দর্শনার্থীদের ছবি তুলে দেন তিনি। এতে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয় তার।আর কয়েক দিন পর আয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।

মানিগাঁও গ্রামের ঘোড়াচালক মো. সুজন তার ঘোড়ার নাম দিয়েছেন জিং সিং পাওয়ার হর্স। সুজন বলেন,এখন প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়। বসন্ত শুরু হলে ৮ থেকে ৯শ টাকা করে প্রতিদিন আয় হবে। জাদুকাটা নদীর তীরে ১০০ বিঘারও বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই শিমুল-বাগান। শীতের বিদায়ের এই সময়ে একসঙ্গে তিন হাজার গাছ পাপড়ি মেলে অপেক্ষা করছে বসন্তের। শিমুলের এই স্বর্গরাজ্যের শুরুটা হয় আজ থেকে ১৯ বছর আগে।

২০০৩ সালে উপজেলার বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন পতিত জমিতে গড়ে তোলেন এই বাগান। সময়ের স্রোতে একদিন বসন্তের আগমন ঘটবে, আবার একদিন ফুরাবে তার নিবেদন। তবে তাহিরপুরের রূপে ভাটা পড়বে না এতটুকু। শহীদ সিরাজ লেক,বড়গোপটিলা,টাঙ্গুয়ার হাওর, মেঘালয় পাহাড়,আর সেই পাহাড় বেয়ে নেমে আসা জাদুকাটা নদীর জাদুর টান রয়ে যাবে বছরজুড়ে।

সূত্রঃ ঢাকা পোষ্ট


সিলেট প্রতিদিন / এম এ আর


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স