সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

বিপিএল: বিচ্ছেদ বেদনায় ম্লান সিলেট

  • প্রকাশের সময় : ০৯/০২/২০২২ ০৯:০৬:০৪
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
9

সাজলু লস্কর, সিলেট ক্রিকেট  স্টেডিয়াম থেকে :: হুট করে দেখে কেউ ধন্দে পড়ে যেতে পারেন। এটা কি বাংলাদেশের মাঠ?একদিকে টিলা। অন্যদিকে দিগন্ত বিস্তৃত চা-বাগান। চারপাশ জুড়ে মনোরম পরিবেশ। গ্যালারিতেও সবুজের ছোঁয়া। মাঠের একপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ‘গ্রিন গ্যালারি’।

সব মিলিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে দারুণ মনকাড়া সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবারে বিপিএল পর্বে ছিল বিচ্ছেদ আর বেদনার সুর।

বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষ হচ্ছে আরও ঘন্টা দু’য়েকের মধ্যে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বিচ্ছেদ বেদনায় ম্লান হচ্ছে ফ্লাড লাইটের আলো। বিশেষ করে এই বিচ্ছেদে বেশী ভারাক্রান্ত গণমাধ্যম কর্মীরা। কারণ, করোনা পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের বিপিএল’র প্রাণ ছিলেন তারাই।

সোমবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি ) শুরু হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল)। চা বাগানের নিরিবিলি সবুজ শান্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো ছিল দর্শক শূণ্য প্রায়। করোনার কারণে অতিরিক্ত লোক জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা না থাকলে সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীরা মাঠে যে আসতেন, গ্যালারি জমজমাট থাকতো। চিৎকার চেঁচামেচিতে মোটামুটি সরগরম একটা পরিবেশ হতো, এতে কোন সন্দেহের অবকাশা নেই।

তবে এবারের বিপিএল সিলেট পর্বের প্রাণ ছিলেন মিডিয়া কর্মীরা। পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রেসবক্সে তারা বসতেন, হাততালি হইহুল্লোড়ের পাশাপাশি চিৎকার চেঁচামেচি যাই বলুন, সবকিছুই হতো প্রেসবক্সে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচই জমিয়ে রাখতেন তারা। এক্ষেত্রে কে কোন দলের সমর্থক ওসব চিন্তার অবকাশ তাদের ছিলনা। যেকোন খেলোয়াড় ভালো খেললেই তারা তালি আর চিৎকার স্টেডিয়াম ফাটিয়ে দেয়ার চেষ্টা যেমন করেছেন, তেমনি কারও কোন অপ্রত্যাশিত খেলায় তারা ইস! ইস! বলে আফসোস করেছেন।

অবশ্য স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সেও কিছু দর্শক ছিলেন। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তারাতো ভিআইপি। চিৎকার চেঁচামেচি সমর্থন হইহুল্লোড় খুব্ একটা যায়না তাদের সাথে। তাই বলা যায়, তিনটা দিনই পেশাগত দায়িত্বে থাকা গণাধ্যম কর্মীরাই  ছিল খেলার প্রান।

তাবে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমিদের কয়েকজনকে প্রায় প্রতিদিনই চা বাগানের টিলায় দাঁড়িয়ে বা বসে খেলা উপভোগ করেছেন। স্টেডিয়ামের প্রাণ খেলা আর খেলার প্রাণ দর্শক। এবারের বিপিএলের সিলেট পর্বে সেই প্রাণ তেমন একটা ছিলনা। যে টুকু ছিল তা ঐ প্রেসবক্সে।

পেশাদার সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাততালি আর চিৎকার চেঁচামেচির মাধ্যমে খেলাকে খেলা হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার দায়িত্বটাও পালন করেছেন তারা।

তবে তিনদিনের এই ক্রিকেট উৎসব শেষ হতে সময় আছে আর মাত্র ঘন্টা দু’য়েক। একারণে বিষাদের ছায়া ছড়িয়ে পড়ছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে।

কাল থেকে আর খেলা কাভার করতে কেউ সেখানে যাবেন না বা জড়ো হবেন না। ব্যস্ত থাকবেন অন্য কোথাও। তবে মনে গেঁথে থাকবে বিপিএল-২২ এর সিলেট পর্ব। চা বাগানে সবুজ গালিচায় চোখে পড়লেই সেই স্মৃতিগুলো নাড়া দিয়ে যাবে তাদের।


সিলেট প্রতিদিন / এসএল


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স