শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন

সিলেটে বিকাশ প্রতারক চক্রের খপ্পরে সাংবাদিক, বিস্তারিত

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০২/২০২২ ১১:৫২:৫১
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
20

বিকাশ প্রতাকর চক্রের খপ্পরে পড়ে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সিলেট প্রতিদিন২৪ডটকম’র বার্তা সম্পাদক ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য এনামুল কবীর।

আজ সোমবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে তার সঙ্গে প্রতারক চক্রের আলাপ হয় এবং তারা এনামুলের বিকাশ অ্যাকউন্ট হ্যাক করে প্রায় সাড়ে ৪শ’র কিছু বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ব্যাপারে জনসচেতনতার জন্য পুরো ঘটনাটি সংলাপ আকারে তুলে ধরা  হলো।

তিনি জানান, সকাল ১১টার দিকে একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে একজন খুব অনুনয়ন বিনয় করে শুদ্ধ বাংলায় বলে

প্রতারক: আসসালামু আলাইকুম, ভাইয়া আমি একজন ব্যবসায়ী। বিকাশের অ্যাজেন্ট। আপনার বিকাশে ১০ হাজার দু’শো টাকা ছেড়ে দিয়েছি।

এনামুল : সমস্যা নেই। আমি একজন সাংবাদিক। আপনি ভয় পাবেন না বা আপসেট হবেন না। আমার অ্যাকাউন্টে টাকাটা এলে আমি অবশ্যই আপনাকে ফিরিয়ে দিবো। আপনার দোকানটা কোথায়?

প্রতারক: আম্বরখানা পয়েন্টে।

এনামুল : সমস্যা নেই। আমিও ঐ এলাকায় থাকি।

বলে লাইন কেটে দিয়ে তিনি নিজের অ্যাকউন্ট দেখেন। সেখানে তার আগের রাখা টাকাটাই ছিল।

এনামুল : না ভাই। আমার বিকাশে আসেনি। আপনি হয়ত অন্য কাউকে দিয়েছেন দেখেন। আমার অ্যাকাউন্টে এলে অবশ্যই আপনি ফেরত পেতেন।

প্রতারক: আচ্ছা ভাই। আমি দেখি।

প্রায় ঘন্টাখানেক পর ঐ প্রতারক আবার কল দেয়। বলে

প্রতারক: ভাই, আপনার অ্যাকাউন্টে টাকাটা গেছে মনে করে আমি বিকাশ অফিসে বলে অ্যাকান্ট বøক করিয়েছিলাম। কিছু মনে করবেন না ভাই। বিকাশ থেকে কল দিয়ে তারা আবার আপনার অ্যাকাউন্ট ঠিক করে দিবে। 

কথা বলা শেষ হতে না হতে অপর একটি নম্বর থেকে কল আসে। পরিচয় দেয় বিকাশের মহাখালি অফিসের কর্মকর্তা বলে।

প্রতারক : স্যার, আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছিলাম। আপনার অ্যাকাউন্ট বøক করেছিলাম আমরা। এখন সেটি ঠিক করে দিচ্ছি আমরা। এক্ষেত্রে আপনার সহযোগীতা চাই।

এনামুল: বলুন কি করতে হবে?

প্রতারক: আপনার অ্যাকাউন্ট কবে করেছিলেন?

এনামুল: ৫/৬ বছর আগে।

প্রতারক: জ্বি স্যার। দেখেন আপনি শেষ লেনদেন করেছিলেন একদিন আগে। ১৫ টাকা রিচার্জ করেছিলেন। এর আগের রাতে আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হয় ৫০ টাকা। ঠিক আছে?

এনামুল : জ্বি, ঠিক আছে। 

প্রতারক : দেখুন। আপনারতো বিশ্বাস হচ্ছে যে আমরা বিকাশের লোক।

এনামুল : জ্বি কিছুটা হচ্ছে।

প্রতারক: আপনার পিন নম্বর?

এনামুল : কেন? পিন নম্বর আপনাকে বলব কেন?

প্রতারক : নানা বলতে বলিনি। বলছি ওটা কখনো কাউকে বলবেন না। আর এখন একটা সংখ্যা বলছি- এটাকে এত দিয়ে গুণ করেন। প্রথম ৫টি সংখ্যা বলুন।

বলার পর। হ্যাঁ। এখন আপনার একাউন্টে বিকাশ থেকে ৭ হাজার ৭০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাঠানো হবে। আপনি আপনার পাশের বিকাশের দোকানে একটা নম্বরে কিছু টাকা রিচার্জ করেন।

এবার এনামুল কবীরের বিশ্বাস হয় যে, এরা প্রতারক। তিনি কিছু কঠোর কথা শুনিয়ে লাইন কেটে দেন। বিকেল ৪টার দিকে টাকাটা তুলতে গিয়ে দেখেন তার অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র তিন টাকা ৮০ পয়সা।

একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এরা প্রযুাক্তিগত দিক দিয়ে খুব দক্ষ। মূলত গুণ করার বিষয়টি কেউ বললেই ধরে নিবেন আপনি প্রতারকদের খপ্পরে। কিছুতেই ঐ ফাদে পা দেয়া যাবেন। তাহেল ঐ গুণের পর ফলের প্রথম পাঁটি সংখ্যা ওরা জেনে নেয়ার পর পাসওয়ার্ডটাও তারা বের করে ফেলে। 

দুটি নম্বর দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ( মিডিয়া ) বিএম আশরাফ উল্যা তাহের জানান, এই চক্রটির অবস্থান সিলেট বিভাগের বাইরে। তারা এদের ব্যাপারে সক্রিয়। প্রতারকদের বিরুদ্ধে সারাদেশে অভিযান চলছে।


সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স