সিলেটের কেদ্রীয় শহিদ মিনারে অপেক্ষমাণ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন পীর হাবিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে আহনাফ ফাহমিন অন্তর ও ছোট ভাই পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি
পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি বলেন, ‘পীর হাবিব ভাই যা বিশ্বাস করতেন তাই লিখতেন, তাই বলতেন। তিনি স্পষ্টবাদী ছিলেন। তিনি কখনো বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার ক্ষেত্রে কোন আপোষ করেননি।
সাংবাদিকতা পেশাকে তিনি ইবাদত মনে করতেন। তিনি সিলেটের মানুষকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসতেন। তার জীবনের শেষ লেখাটিও ছিল সিলেট নিয়ে।’
এসময় আহনাফ ফাহমিন অন্তর বলেন, ‘তাঁর বাবা সারাজীবন দেশ, মানুষ ও গণতন্ত্রের কথা লিখে গেছেন। মানুষকে ভালোবেসে তিনি জীবন কাটিয়েছেন। তিনি সবসময় সিলেট ও সুনামগঞ্জের মাটি ও মানুষের গল্প করতেন।
শীতের রাতে শহিদমিনারে বিশাল মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে সিলেটের মানুষও তাকে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসতেন।’ পীর হাবিবুর রহমানকে শেষ বিদায় জানাতে প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে রবিবার রাত ৮টা থেকে সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদমিনারে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রাত ১০টায় তাঁর মরদেহবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি এসে পৌঁছায় সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদমিনারে। এসময় সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু ও শিক্ষাবীদ প্রনব কান্তি দেবের উপস্থাপনায় পীর হবিবুর রহমানের কর্মজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সিলেট সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক লিয়াকত শাহ্ ফরিদী, দৈনিক যুগান্তরের সাবেক ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান আহমদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন সিলেট অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক শাহ্ দিদার আলম নবেল, প্রথম আলো সিলেট অফিসের সাবেক নিজস্ব প্রতিবেদক উজ্জ্বল মেহেদী।
স্মৃতিচারণ শেষে পীর হাবিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পন করা হয়।
যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় তার মধ্যে ছিলেন- সিলেট জেলা প্রেসক্লাব, সিলেট প্রেসক্লাব, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-ইমজা, সিলেট সাংবাদিক ইউনিয়ন, সিলেট ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সিলেট অফিস, দৈনিক যুগান্তর সিলেট অফিস, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র, সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, সিলেট জেলা ও মহানগর জাসদ, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেট ক্লাব, সিলেট স্টেশন ক্লাব, টিলাগড় ক্লাব, সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, যুক্তরাজ্য জাসদ, ইনোভেটর, দেশ ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য, হৃদয়ে একাত্তর, বঙ্গবন্ধু লেখক ফোরাম, গোবিন্দগঞ্জ আবদুল হক স্মৃতি কলেজ, আমরা মুক্তযোদ্ধা সন্তান, জগন্নাথপুর সমিতি, সুনামগঞ্জ সমিতি, সিলেটভিউ টোয়েন্টিফোরডটকম, বাংলাভিউ, বাধন সাহিত্য সংস্থা, আহ্বান সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম কমিশন, ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদ, বাংলাদেশ শহিদ স্মৃতি সংসদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বন্ধু এক্সপ্রেস সুনামগঞ্জ।
এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের পর পীর হাবিবের মরদেহ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নেওয়া হয়। বেলা তিনটায় সাংবাদিক পীর হাবিবের কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রতিদিন কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে মুম্বাই জাসলুক হাসপাতালে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশনের মাধ্যমে ক্যানসার মুক্ত হন পীর হাবিবুর রহমান। এরপর গত ২২ জানুয়ারি তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। করোনামুক্ত হলেও কিডনির জটিলতায় পীর হাবিব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় স্ট্রোক করলে তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
বরেণ্য সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমানের জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ শহরে। তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



