মাত্র কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে। রীতিমতো ভূমিধ্বস জয় পেয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের নৌকা। প্রার্থী ছিলেন তরুণ তুর্কি হিসাবে খ্যাত হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি এখন সংসদ সদস্য হিসাবে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে এই মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দক্ষিণ সুরমায় সরকারি দলের প্রভাব প্রতিপত্তিতে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী ঘরানার অনেক নেতাকর্মী। প্রমাণ হিসাবে তারা উদাহরণ টানছেন, সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের প্রভাব ধরে রাখতে পারেনি। এমনকি, একজন জামায়াত নেতার জয় তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। কেউ কেউতো এটাকে অপমান হিসাবেও দেখছেন। এজন্য তারা এই উপজেলার আওয়ামী নেতৃবৃন্দকেই দায়ী করতে শুরু করেছেন। তবে নাম প্রকাশ না করে।
শনিবার ( ৫ ফেব্রæয়ারি ) দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল যা বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাজেন্টের মাধ্যমে পাওয়া গেছে, প্রায় নিশ্চিত নৌকার ভরাডুবি ঘটেছি। প্রায় হাজারখানেক ভোটের ব্যবধানে জয় পেতে যাচ্ছেন স্বতন্ত্রের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোটরসাইকেলের মামুন খান।
বিষয়টি মানতে পারছেন না আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী। তাদের মতে, দলীয় শৃঙখলা না থাকায় এমন ফলাফল। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটার হিসাবে পরিচিতদের সবগুলো ভোট নৌকায় পড়েনি। পড়লে মোটরসাইকেল পাত্তা পেতোনা। নৌকার জয় ছিল প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু যা ঘটেছে এতে আমরা হতাশ।
তাদের মতে, আমরা কিছু মানুষ নিবেদিতপ্রাণ হিসাবে নৌকার পক্ষে রাতদিন পরিশ্রম করেছি। কিন্তু এই আওয়ামী লীগেরই বিশেষ একটা অংশ দলের জন্য কাজ করেনি। তার খেসারত দিতে হয়েছে নৌকার প্রাথীকে।
দলের পক্ষ থেকে দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যারা দলের পক্ষে কাজ করেন নি বা যাদের ভূমিকা দলের বিপক্ষে গেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা নাহলে আওয়ামী লীগ এবং নৌকার জন্য আগামীতে আরো ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে- বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
এদিকে, শনিবারের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোট ৮ ইউনিয়নের নির্বাচন শেষ হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জিতেছেন ৪ ইউনিয়নে, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী জিতেছেন দুটিতে, স্বতন্ত্রের ব্যানারে যুবদল নেতা জয় পেয়েছেন একটি ইউনিয়নে।
আর আওয়মী লীগের হৃদয় চুরমার করে মোল্লারগাঁওয়ে জয় পেলেন স্বতন্ত্রের ব্যানারে জামায়াত নেতা মামুন খান।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



