বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন

শান্তিগঞ্জে অশান্তি, নেপথ্যে পুলিশ!

  • প্রকাশের সময় : ২২/০২/২০২২ ০১:৩৫:৫০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
9

হাওরপারের ছোট্ট আর শান্ত নিরিবিলি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা। ইদানিং প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে জনপদ। কারণ, উন্নয়ন। এই এলাকারই সন্তান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা এখানে চলছে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড। তবে কখনো কখনো নেতিবাচক খবরের শিরোনামেও আসছে হাওরের শান্ত আর স্নিগ্ধ হাওয়ায় দোলা দেয়া সবুজ ফসল আর রূপালী মাছে সমৃদ্ধ শান্তিগঞ্জ। তেমনই এক খবর, নির্যাতনে আহত হয়ে ১০/১২ হাসপাতালের বেডে শুয়ে চিৎকার আর চেঁচামেচি করতে করতে প্রাাণ হারিয়েছেন এ উপজেলারই উজির মিয়া (৪৫)।

রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একজন ভালো ও নামাজি মানুষকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আর সেই নির্যাতনকারী শান্তি সুরক্ষায় নিয়োজিত দেশের পুলিশ বাহিনীর কয়েকজন সদস্য।

মাত্র বছরখানেক আগে এই সিলেটেরই আখালিয়ার যুবক রায়াহানকে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানায় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে নির্যাতন এবং তার মৃত্যুর বিষয়টি এখনো দগদগে ঘা হয়ে বেঁচে আছে সিলেট বিভাগের আপামর জনগনের মনে। সেই ঘা শুকাতে না শুকাতেই আবার উজির মিয়ার মৃত্যুর সাথে জড়িয়ে গেলো পুলিশেরই নাম। বারবার কেন এমনটা হবে বা হচ্ছে, এ নিয়ে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় সিলেটের সচেতন মানুষ।

শান্তিগঞ্জের মানুষ সুখে শান্তিতেই ছিলেন। বিশেষ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি তাদের অনেকটা সুখি করেছে- এমনটা ব্যক্তিগত আলোচনায় যেমন উঠে আসছে, তেমনি আসছে গণমাধ্যমেও। সেখানে উজির মিয়ার এমন মৃত্যু আবারও তাদের সেই সুখ শান্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিলো। সত্যিই কি তারা সুখে আছেন? রাষ্ট্রের পুলিশ যখন জনগনের নিরাপত্তা আর সুখ শান্তির জন্য কাজ করা কথা। তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ভাবিয়ে তুলেছে বৃহত্তর সিলেটের মানুষকে।

তবে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের প্রধান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টিকে মানতে নারাজ। সিলেট প্রতিদিনের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি লুৎফুর রহমানের সাথে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন, ১০/১২ দিন আগে থেকেই তিনি তাদের হেফাজতের বাইরে ছিলেন। পুলিশী নির্যাতনে তিনি আহত হয়েছেন বা নির্যাতন হয়েছে তার উপর তেমন কোন অভিযোগও তার পক্ষ থেকে করা হয়নি।

পুলিশের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরাসরি বিষয়টাকে নাকচও করে দিচ্ছেন না আবার মেনেও নিচ্ছেন না। তবে তিনি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি তার কথাই বলেছেন। তবে শান্তিগঞ্জের মানুষ যে, শান্তিতে নেই- কখনো কখনো অশান্তির আগুনে তাদের পুড়তে হচ্ছে উজিরের মৃত্যু, মানববন্ধন, লাশের উপর দিয়ে ইউএনও’র গাড়ি চলে যাওয়ার ঘটনাগুলো থেকে তেমনটাই বুঝে নিচ্ছেন সচেতন মানুষ।


সিলেট প্রতিদিন / এসএএম


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স