সিলেটের বিশ্বনাথে অপরাধী না হয়েও হামলার মামলায় এক সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ওই চালক পৌরসভার আলাপুর গ্রামের রফিক আলীর ছেলে শাহিন আহমদ (২৫)। অথচ এই চালক মামলার বাদির ওপর হামলার সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন না বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এনিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অন্যদিকে এ ঘটনায় পুলিশ সরেজমিন তদন্ত না করে মামলাটি রেকর্ডের মাধ্যমে নিরপরাধীকে গ্রেফতার করার অভিযোগও ওঠেছে।
জানা যায়, গত ৬ জুন বিকেলে বিশ্বনাথ পৌরসভার কালিগঞ্জ বাজারে ওসমানীনগর উপজেলার বড় ধিরারাই গ্রামের বদরুল আলম (৪৭) ও তার ছেলে আব্দুল হাকিম হামজার (১৭) ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৮ জুন রাত ৯টা ১০ মিনিটের সময় বিশ্বনাথ থানায় ৯ জনের নামে মামলা করেন বদরুল আলম। মামলা নং-(৬)। তবে রহস্যজনক কারণে তদন্ত না করেই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। এই মামলায় ৩ নং আসামী করা হয় সিএনজি চালক শাহিন আহমদকে। মামলা রেকর্ড হওয়ার মাত্র ৭ ঘন্টার ভেতরে ৯ জুন ভোররাত ৪টার সময় কালিগঞ্জ বাজারের মইজপুরস্থ একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দুপুরে সিলেট আদালতে প্রেরণ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সালিশি ব্যক্তি শিশু মিয়া, ফজর আলীসহ একাধিক লোকজন বলেন, এই হামলার সময় চালক শাহিন আহমদ ঘটনাস্থলে ছিলো না। প্রয়োজনে তারা যেকোনো স্থানে গিয়ে স্বাক্ষী দিতে পারবে। এনিয়ে কালিগঞ্জ বাজারের অনেক প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে কালিগঞ্জ বাজারের সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের সভাপতি আব্দুল আহাদ বলেন, শাহিন আহমদ এই ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলো না। পুলিশ সরেজমিন তদন্ত না করে মামলা রেকর্ড করায় আমার নিরপরাধ চালককে গ্রেফতার করেছে। তিনি এই গ্রেফতারের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, মামলা রেকর্ড হয়েছে সঠিক। তবে তদন্তের পর শাহিন আহমদকে হামলার সাথে জড়িত পাওয়া না গেলে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে বলে জানান।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



