সিলেটে বাবা-মায়ের দ্বন্দে বলির পাঁঠা হলো দেড় বছরের শিশু সাবিহা। নিজের গর্ভের সন্তানকে বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নাজমিন আক্তার (২৮) নামের এক পাষন্ড মা। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছেও নিজেই এসে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সিলেটের শাহপরানের নিপবন আবাসিক এলাকায়।
জিজ্ঞাসাবাদে নাজমিন আক্তার পুলিশকে বলেন, ‘আমি কাউকে ফাঁসাব না। সাব্বিরকেও ফাঁসাব না। তাকে ফাঁসালেও সে অল্প শাস্তিতে পার পেয়ে যাবে। তার বিচার আল্লাহ করবেন। আমি আমার মেয়েকে খুন করেছি। আমার ফাঁসি হোক।’
বুধবার বিকেলে কোতোয়ালি থানায় গণমাধ্যমকে এমনটি বলেন ঘাতক মা।
ক্ষুব্ধ এই নারী বলেন, ‘বিয়ের পর আমার স্বামী বিদেশ চলে যায়। চার বছর সেখানে থাকা অবস্থায় সে আমার ভরণপোষণ দেয়নি। আমি স্কুলে শিক্ষকতা করে এবং টিউশনি করে চলেছি। পরে দেশে ফিরে আমাকে অনেক বুঝিয়ে আবার সংসার শুরু করে। তখন আমি গর্ভবতী হই। আমাকে গর্ভবতী রেখেই সে আবার কাতার চলে যায়। ’
নাজমিন অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে সাব্বির অভিযোগ তোলে- আমার গর্ভের সন্তান তার নয়। আমি তখন ডিএনএ টেস্টের কথা বলি। কিন্তু সাব্বির ও তার পরিবার তা না করে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে থাকে। আল্লাহর কী রহমত! জন্মের পর দেখা গেল মেয়ের চেহারা অবিকল সাব্বিরের মতো। চোখ, ঠোঁট, মাথার চুল, হাসি সব একই রকম। ’এরপর তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘সাব্বির ১৫ দিন আগে দেশে এসেছে। কিন্তু একবারও মেয়েকে দেখতে আসেনি। বরং আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছে। এই দুঃখে আমি আমার মেয়েকে হত্যা করেছি।’
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট শহরতলির শাহপরান নিপোবন এলাকায় নিজের দেড় বছর বয়সী শিশুকন্যা সাবিহাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ নাজমিন আক্তার (২৮)।পারিবারিক কলহের জেরে নাজমিন তার মেয়ে সাবিহাকে বালিশচাপা দেন। এ সময় সাবিহার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে সাবিহাকে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন নাজমিনের বোন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় নাজমিনও হাসপাতালে আসেন।পরে তিনি হাসপাতালে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় গণমাধ্যমের সামনে তিনি মেয়েকে হত্যার বিষয়টি স্বীকারও করেন।
পুলিশ জানায়- সিলেটের গোলাপগঞ্জের কালিকণ্ঠপুরের বাসিন্দা নাজমিন বেগমের সঙ্গে প্রবাসী সাব্বির আহমদের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর আগে। গত দেড় মাস আগে সাব্বির আহমদ প্রবাস থেকে দেশে ফিরেন। তার আগে থেকেই নাজমিনের সঙ্গে সাব্বিরের পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। এ কারণে দেশে ফিরলেও নাজমিনের সঙ্গে ঘর সংসার করছিলেন না।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানিয়েছেন- নাজমিন বেগম বিকালে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি নিজের সন্তানকে খুন করেছেন বলে জানান। তার দেয়া তথ্য মতে হাসপাতালে খবর নিয়ে সত্যতা জানতে পারি। পরে নাজমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান- স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জের ধরে শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নাজমিন। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



