সাজলু লস্কর :চেহারায় নেই আভিজাত্যর চাপ। কর্মীদের খোঁজ নিতে যেকোনো সময়ে বাড়ি গিয়ে হাজির হয়ে চমকে দেন সবাইকে। বলছি জেলা যুবলীগ সভাপতি শামীম আহমদ ভিপির কথা। সিলেটে জেলা যুবলীগের এক অনন্য উপহার এই ভিপি শামীম।কর্মীদের কাছে দরবেশ বলে সমধিক পরিচিত তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই ভিন্ন স্টাইলের আচরণ মুগ্ধ করতো সবাইকে।
আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওসমানীনগর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শামীম আহমদ ভিপি। ভিপি শামীম হিসাবেই তিনি সবার কাছে পরিচিত।
সম্প্রতি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভক্ত অনুরাগীরা অনেকেই এমন দাবি জানাচ্ছেন। তারা তাকে এই পদে প্রার্থী হিসাবে দেখতে চেয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। সুবাদে সিলেট প্রতিদিনের এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করেন।
তবে জানালেন, বিষয়টি নির্ভর করছে দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার জনসাধারনের উপর। তারা চাইলেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই দেশে শুরু হয়েছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। যদিও এ ব্যাপারে এখনো নির্বাচন কমিশন থেকে কোন তথ্য জানানো হয়নি, তবে সচেতন মহল নিশ্চিত- খুব তাড়াতাড়ি হয়ত উপজেলা নির্বাচনের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে।আর তাহলে ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে তারা ভিপি শামীমকেই দেখতে চাইছেন। চাওয়ার অবশ্য কারণও আছে।
পারিবারিক সূত্রে বহন করছেন বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ। সেই আদর্শে কালিমা লাগায়নি পরিবারের কেউই। উত্তরাধিকার সূত্রে একই অবস্থা শামীম আহমদের। ফাঁকা পকেটেও অনৈতিকতার কাছে নীতিভ্রষ্ঠ না হয়ে কর্মীদের কাছে আগামীর দৃষ্ঠান্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। পিতা মরহুম মো. আব্দুল্লাহ ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে থাকা একমাত্র চেয়ারম্যান।
বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদ ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও একাধারে ৩ বারের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।বর্তমানে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, তার তার আরেক ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমদ কনা মিয়া বালাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কামান্ডার।
তার স্ত্রী সিলেট জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুষমা সুলতানা রুহী । শামীম আহমদের শ্বশুর প্রয়াত কমরেড আজহার আলী তাজপুর ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ।
তাজপুর ডিগ্রি কলেজে নির্বাচিত ভিপি পরবর্তী অনেক সুযোগ আসে শামীমের উপর। কাড়ি কাড়ি টাকা রুজির পথও ছিলো তৈরি। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ ছিলোনা কোনোদিন। পারিবারিক ইতিহাস,ঐতিহ্য এবং বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা হওয়ার সেই স্বপ্ন তাকে কোনোদিনই স্পর্শ করাতে পারেনি অনৈতিকতায়।
এরই পথ ধরে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বালাগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৪ সালে জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ও ১/১১ এর সময় যখন কেউই জীবনের ভয়ে যুবলীগের দায়িত্ব নিতে চাননি, সেই সময় সাহসিকতার সাথে সিলেট জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
এদিকে জানা গেছে, নিজের উপজেলা ওসমানীনগরে ভিপি শামীম একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাদের যেমন পারিবারিক একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে, তেমনি ব্যক্তিগতভাবেও তিনি নিজে বেশ গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ। ষষ্ঠধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গত ৩১ জানুয়ারি ওসমানীনগরের সাদিপুর ইউনিয়নের গজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি দেখতে গিয়েছিলেন ভিপি শামীম।সামান্য সময় তিনি সেখানে অবস্থান করেন, সস্ত্রীক।
এসময়ের মধ্যে কেন্দ্রের বাইরে এলাকার কয়েকজন সমস্যাগ্রস্ত মানুষ তার সঙ্গে আলাপজুড়ে দেন। তিনি সহাস্যে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলেন। এরপর হাসিমুখে সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন।
এ প্রতিবেদক বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। পরে কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে কথাও বলেন। সবারই এক কথা, তিনি খুব ভালো মানুষ। মানুষের বিপদে- আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করেন। সমস্যাগ্রস্তরা সবসময়ই তার কাছে অগ্রাধিকার পায়। তাছাড়া তার ব্যবহারের প্রশংসা করেন সবাই। বলেন, অমায়িক। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এমন একজনকে চেয়ারম্যান পদে পাওয়ার দাবিতো উঠতেই পারে।
এ অবস্থায় ভিপি শামীমের চিন্তাভাবনা কি? নিজে কি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত? জানতে তার মোবাইর নম্বরে কল দিলে জানালেন, মোটামুটি তিনি প্রস্তুত। ভক্ত অনুরাগী ও এলকার সচেতন মানুষের দাবির প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করতে চান।
তবে এখনো নিশ্চিত নয়। সবকিছু নির্ভর করবে এলাকাবাসী আর দলীয় সিদ্ধান্তের উপর। বললেন, আমার মানসিক প্রস্তুতি আছে। কিন্তু কেবল তা হলেইতো হবেনা। আমার এলাকাবাসীর মতামত থাকতে হবে। সেজন্য ইদানিং আমি কাজ করছি। তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং সচেতন মুরব্বী ও যুবসমাজের সাথে কথা বলছি।
তাদের সবার মতামত পেলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করতে প্রস্তুত। তিনি সবার দোয়াও চেয়েছেন।




সাজলু লস্কর



