মুনায়েম মুন্না :: বিজয় দিবস শেষ হয়েছে প্রায় দু’মাস আগে। মাঝে গেলো জানুয়ারি। এরপর শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। মাসটি বরণ করে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কমর্সূচিও পালন করেছে। কিন্তু তবুও অবসান হয়নি দক্ষিণ সুরামার সিলাম ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের। ভাষার মাসটাকে বরণ করে কোন কর্মসূচি পালন না করলেও, সেই ডিসেম্বরে টানানো বিজয় ব্যানারটি কেউ অপসারণ করার প্রয়োজনই মনে করেন নি। তবে সিলেট প্রতিদিনের সুবাদে তা অপসারণ হলো বুধবার দুপুরের দিকে। তাও টানানো হয়েছিল এক চেয়ারম্যানের আমলে, আর অপসারণ হলো নতুন চেয়ারম্যানের হাতে। এনিয়েও এলাকায় চলছে হাসাহাসি।
৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় পাকবাহিনী নারকীয় নির্যাতনে নিহত সালাম বরকত রফিক জব্বারের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিষ্ঠিত হয় শহীদ মিনার। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেই এখন ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শহীদ মিনার। স্মৃতির এই মিনারগুলোতে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারিসহ অন্যান্য জাতীয় দিবসেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
তবে সিলামের কাহিনী অন্য। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ফুল দেয়া হয়, টানানো হয় ব্যানার। কিন্তু সেই ব্যানারটি আর কেউ অসারণ করেননি।
এদিকে ডিসেম্বর শেষে যখন জানুয়ারিও অত্রিক্রম হওয়া সময় ঘনিয়ে এলো, তখন স্থানীয় সচেতন মহলে শুরু হয় কানাঘুষা, আলোচনা সমালোচনা। ভাষার মাস ফেব্রæয়ারি চলে এসেছে- অথচ এখনো বিজয় ব্যানার! ব্যাপার কি?
এনিয়ে অনেকেই হাসিটাট্টা শুরু করেন। কলেজ ছাত্র আবির হাসান (১৯) বললেন, এটা আর কে খুলবে? ভাষার মাস এলোকি গেলো, মেম্বার চেয়ারম্যানদের আর এসবের দিকে খেয়াল দেয়ার দরকার কি?
এমন সমালোচনার মুখে সিলেট প্রতিদিনের এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ হয় সিলাম ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহ্ ওলিদুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আমার দায়িত্বগ্রহনের পর বিষয়টি আগে নজরে পড়েনি। পড়া উচিৎ ছিল। তবে আমি দেখবো।
বুধবার দুপুরের দিকে সরজমিনে ঐ এলাকায় গেলে দেখা যায়, বিজয়ের মাসে টানানো বিজয় ব্যানারটি সরানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এজন্য কেবল নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানই দায়ী নয। দায় আছে সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম হোসেন বখতেরও। তার আমলে টানানো ব্যানারটি যাথাসময়ে অপসারণ হয়নি। হয়েছে প্রায় দু’মাস পর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অলিদের আমলে, তাও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রায় ৯দিন পর।




মুনায়েম মুন্না



