সিলেটের দুটি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করেছে এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (একডো)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সিলেটের দলদলি ও কেওয়াছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করান। সিলেটের চা শ্রমিকদের সংগঠন ‘চা শ্রমিক নারী মঞ্চ’ এর আয়োজনে একডোর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সিলেট রেডক্রিসেন্টের সহযোগিতায় ‘ ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনে’ ২ চা বাগানের বিভিন্ন বয়সের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ, শিশু রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করান।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত দলদলি ও কেওয়াছড়া চা বাগানে চলে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনে।
এসময় রক্তের গ্রুপ করাতে আসা কেওয়াছড়া চা বাগানে ৪৫ বছর বয়সী সুচরিতা দাশ বলেন, আমরা চা শ্রমিকরা শুধু পাতা তুরি আর ঘর সংসার করি। বিয়ে হয়েছে, বাচ্চাকাচ্চা হয়েছে কিন্তু আমার শরীরে কি রক্ত আছে সেটাই জানতাম না। আজ সবার সাথে এসে পরীক্ষা করে জানতে পারলাম আমার রক্ত বি পজিটিভ। এখন অসুখ হলে যদি রক্ত লাগলে তাড়াতাড়ি রক্ত যোগার করা যাবে।
দলদলি চা বাগানের ৩০ বছর বয়সী অনিতা দাশ বলেন, চা বাগানে আমরা যারা থাকি আমাদের রক্ত পরীক্ষা করানো বা গ্রুপ জানা যে লাগে সেটা আমরা জানি না। আজ এত বছর পর রক্তের গ্রুপ জানতে পেরে সত্যি অনেক ভাল লাগছে। এখন বলতে পারবো আমার রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ।
কেওয়াছড়া চা বাগানের স্বপ্না দাশ বলেন, চা বাগানের নারীদের বাচ্চা প্রসবের সময় মাঝে মাঝে রক্ত লাগে। কিন্তু যখন ডাক্তার বলে রক্ত লাগবে তখন দেখা যায় আমরা নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানি না। তাই গর্ভবতী নারীদের বাচ্চা প্রসব করাতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তাছাড়া আমরা জানিও না কিভাবে রক্তের গ্রুপ জানা লাগে। আজ আমরা ফিতে রক্তের গ্রুপ জানতে পেরেছি একডোর মাধ্যমে। আমিও আজ প্রথম জানতে পারি আমার রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। আমাদের জন্য এই ভাল উদ্যোগ নেওয়ার জন্য একডোকে ধন্যবাদ জানাই।
ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন সম্পর্কে একডো'র নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ বলেন, চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আমরা নিয়মিত কাজ করি। এই কাজ করার প্রেক্ষিতে কিছুদিন আগে জানতে পারি একজন নারী চা শ্রমিকের প্রসবকালে রক্তের প্রয়োজন পরে। কিন্তু তিনি তার রক্তের গ্রুপ জানেন না। তখন তার বাচ্চা প্রসব করাতে দেড়ি হয় কারণ তার রক্তের গ্রুপ জেনে রক্ত যোগার করতে অনেক সময় লেগে যায়। তখন থেকেই আমরা চিন্তা করি চা বাগানে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনের। কারণ সিলেটের চা বাগানগুলোতে প্রায় ৭ হাজার নারী চা শ্রমিক আছেন। আমরা জানতে পারি চা বাগানের নারী পুরুষ কারো মধ্যেই ব্লাড গ্রুপিং নিয়ে কোনো সচেতনতা নেই। কিন্তু বাগানে কাজ করার সময় কোনো দুর্ঘটনা হলে বা নারী শ্রমিকদের প্রসবকালে রক্তের প্রয়োজন হলে তারা রক্ত যোগার করতে পারেন না। এবং এই রক্ত যোগার করতে তাদের অনেক সময় ক্ষেপণ হয়। তাই আমরা এই ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেই। ‘চা শ্রমিক নারী মঞ্চ’ এর আয়োজনে, রেডক্রিসেন্ট সহযোগিতায় একডো'র সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হয়




প্রতিদিন প্রতিবেদক



