সিলেট বিভাগজুড়ে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে সেগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে প্রশাসন ও রাজনিতিক নেতৃবন্দের সঙ্গে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকদের বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকদের সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং চলমান সংকট নিরসনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আগামীতে যেকোন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
এর আগে প্রশাসন কর্তৃক মোবাইল কোর্টের অভিযানে জরিমানার নামে চাঁদাবাজি ও নানাভাবে হয়রানির অভিযোগে বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন পাম্প মালিকরা। তবে রাজনৈতিক নেতাদের ও পুলিশ প্রশাসনের হয়রানি বন্ধের আশ্বাসে ভোররাত ৩টার দিকে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান।
এসময় তিনি জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত ধর্মঘট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পাম্প মালিকদের দাবি-দাওয়া পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তার এমন আশ্বাসের পরও ভোর থেকেই পাম্পগুলোতে তেল, গ্যাস বিক্রয় বন্ধ রয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মালিক অ্যাসোসিয়েশনের এক সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেই সভার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পাম্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল হবে কি না।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিলেটের এক পাম্প মালিকের দু'টি পাম্পের একটিতে ট্যাগ কর্মকর্তা, র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্তৃক হিসাব না রাখার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরটিতে এক পাম্পের তেল আরেক পাম্পে নেওয়ার দায়ে জরিমানা করা হয়। এসময় মালিককে বিনা কারণে ৬ ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে অনবরত হিসাব নেওয়া, পাম্পে পুলিশ নিয়োগ, কয়েকটি পাম্পে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ করেন তারা।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



