ছাতক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কর্মকর্তার পদ শুন্য। দীর্ঘদিন ধরে এখানের কার্যক্রম চালাচ্ছেন অতিরিক্ত দায়িত্ব দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান। তিনি সময় সুযোগে মাঝে- মধ্যে কার্যালয়টিদেখ ভাল করছেন। সরকারি ওই দপ্তরে স্থায়ীভাবে কর্মকর্তা না থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং এখানে ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে পিআইও কেএম মাহবুব রহমানকে ছাতক থেকে অন্যত্র বদলী করা হয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এখানের পিআইও হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয় দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমানকে।
তিনি ২৫.০২.২৫ ইং তারিখ থেকে ১৫-০৫-২৫ ইং তারিখ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে আবারো আগের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কেএম মাহবুব রহমানকে পুনরায় ১৫-২- ২৫ ইং তারিখ থেকে দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি ৪-৬-২৫ ইং তারিখ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে বদলী হয়ে যান।
বিগত ৪-৬-২৫ ইং তারিখ থেকে আবারো অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান। তবে তিনি ছাতকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন দোয়ারাবাজার থেকেই। কিন্তু গত ৪-৫ মাসে তিনি ৪-৫ দিন অফিস করেছেন বলে জানা গেছে। শুধু উপজেলা সমন্বয় সভায় অংশ নিতে আসা ছাড়া কখনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমানকে ছাতকে দেখা যায় নি। ফলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে বাস্তবায়নকৃত সব গুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটছে,বিভিন্ন অনিয়ম হচ্ছে।
গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি টিআর- কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক সংখ্যক প্রকল্পের কাজ বর্তমানে ছাতকে চলমান রয়েছে। এগুলো তদারকি ও বিল প্রদানে সবসময়ই বিঘ্ন ঘটতে দেখা গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরকে দেয়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজের মাষ্টার রোল, স্বাক্ষর ও প্রকল্পের টাকার চেক গুলো দোয়ারাবাজার থেকে স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হচ্ছে এখানের অফিস সহকারীদের । পিআইও অফিসে আউটসোর্সিং এ কর্মরত মো.রুবেল মিয়া সরকারি কাগজপত্র ও টাকার চেক গুলো দোয়ারাবাজার
থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে আসেন বলে জানাগেছে । এতে যেকোনো সময় সরকারি তথ্য প্রকাশসহ সরকারি প্রকল্পের টাকার চেক গুলোর ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি এইঅফিসের গোপনীয়তাও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।
ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান এড.সুফি আলম সোহেল,সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.সাইফুল ইসলাম, দোলারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আলমও নোয়ারাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান পীর আব্দুল খালিক রাজা বলেন, জন সংখ্যা ও আয়তনের দিক দিয়ে সিলেট বিভাগের মধ্যে ছাতক হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। এখানে স্থায়ীভাবে একজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা না থাকার কারণে জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প বাস্তবায়নসহ এঅফিস সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন কাজে সেবা গ্রহীতাদেরকে মারাত্নক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান,ছাতকে স্থায়ীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে সুনামগগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে তিনি গত সপ্তাহে একটি পত্র দিয়ে অনুরোধ করেছেন। তিনি আশাবাদী এ সমস্যার সমাধান দ্রুত হবে।




ছাতক প্রতিনিধি



