ঢাকার বাইরে প্রথম যে জেলা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন, সেটি হচ্ছে সিলেট। প্রথমই এলেন পুণ্যভূমিতে। এটি তার শ্বশুরবাড়ি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমানও। তার সেই সফরেই পাল্টে যায় সিলেটের ভোটের হিসাব। জনগণের মতামত হেলে পড়ে বিএনপি’র দিকেই। এরপর শত চেষ্টায়ও বিরোধী বলয় সিলেটের ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে পারেনি।
এবার সিলেট অঞ্চলে বিএনপি’র ভূমিধস বিজয়। আসন সংখ্যা ১৯টি। বিএনপি’র জয় ১৮টিতেই। একটি ছিল শরিক দলের কাছে। সেখানে জয় পেলেন ১১ দলের প্রার্থী। সিলেটে বিএনপি’র ঘাঁটি। সেটি বারবার বলেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এর কারণও ভিন্ন। ১৯৯১ সালে এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালে সিলেট অঞ্চলে লিড করেছিল বিএনপি’র ভোট। পরে অবশ্য কিছুটা খামতি ছিল। ভোট বাড়লেও আসন বাড়েনি। কিন্তু এবার সিলেট অঞ্চলে বিএনপি’র ভোট আসন দুটোই বেড়েছে। এটি বড় চমক নয় বলছেন বিএনপি’র নেতারা।
তারা বলেছেন, সিলেটকে এবার সবার আগে গুরুত্ব দেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশে আসার দিনই তিনি ইচ্ছা করলে লন্ডন থেকে সরাসরি ঢাকায় যেতে পারতেন। কিন্তু সেটি করেননি। বরং সিলেটে এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করে ঢাকায় ফেরেন। এরপর প্রথম যে জেলা সফর করেন, সেই জেলাই হচ্ছে সিলেট। ২১শে জানুয়ারি সিলেটে এসে মাজার জিয়ারত করলেন। পরদিন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন। এ সমাবেশে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিএনপি’র নেতাকর্মীদের চেয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল তারেক রহমানকে ঘিরে।
হতাশ করেননি তারেক রহমান। সিলেটের মানুষকে দিয়েছেন আশ্বাস। ক্ষমতায় গেলে করবেন সিলেটের উন্নয়ন। তার সেই বক্তব্য টনিকের মতো কাজ করেছে। সাইফুর রহমান জমানার পর থেকে সিলেটের মানুষ চাহিদামতো উন্নয়ন পায়নি। ১৭ বছর উন্নয়ন হয়েছে তবে আশানুরূপ নয়। আওয়ামী লীগ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
উন্নয়নবঞ্চিত সিলেটের মানুষ তাকিয়ে ছিলেন তারেক রহমানের দিকে। সিলেটের পথে পথেও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। সেদিন থেকেই সিলেট অঞ্চলে বদলে যায় ভোটের পরিবেশ। তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেন সিলেটের মানুষ। সিলেট জেলার বিএনপি’র সভাপতি ও জেলার নির্বাচনী সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সিলেট সফরের পর থেকেই বদলে যায় ভোটের হিসাব। দলীয় প্রধান সিলেট সফর করার পর বিএনপি’র নেতাকর্মীদের চাঙ্গা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থা ফেরে। তার সফর ও ভাষণ সিলেটের বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। আর ওই সময় থেকেই ভোট হেলে পড়ে বিএনপি’র দিকে।
এ ছাড়া, ১৭ বছর বিএনপি’র নেতাকর্মী মানুষের কাছাকাছি থাকা, দলকে ঐক্যবদ্ধ করে এসব বিষয়ও কাজ করেছে বলে জানান তিনি। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বিএনপি’র প্রতি মানুষের প্রবল আস্থা রয়েছে। আস্থার ভোটেই এগিয়ে যায় বিএনপি। একইসঙ্গে দলীয় দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ধানের শীষের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করায় এ বিষয় ত্বরান্বিত হয় বলে জানান তিনি।
সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীরা পেয়েছেন ১৮টি আসন। এর মধ্যে সিলেটে ৫টি, সুনামগঞ্জে ৫টি, হবিগঞ্জে ৪টি ও মৌলভীবাজারে ৪টি আসনে জয় পায় বিএনপি। সিলেটের যে আসনটিতে পরাজয় হয়েছে সেখানে জোটের শরিক জমিয়ত পেয়েছিল মনোনয়ন। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগাভাগি হওয়ার কারণে ১১ দলের প্রার্থীর জয় হয়। সিলেট অঞ্চলের এ বিজয়ে দলীয় প্রধানের ইমেজ কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট-৪ আসনের নব-নির্বাচিত এমপি আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের কাছে এক সময় জিয়াউর রহমান, পরবর্তীতে খালেদা জিয়া ছিলেন আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এবারের নির্বাচনে মানুষ তারেক রহমানকেই ভালোবেসে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে।
এর মূল কারণ হচ্ছে অবহেলিত সিলেটকে উন্নয়নের মহাসড়কে তোলা। আর সেটি আরম্ভ হবে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই।




ওয়েছ খছরু



