রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ও ধর্মীয় কারণে বেদে যুবকের উপর হামলা, প্রাণনাশের আশঙ্কা

  • প্রকাশের সময় : ২০/০৭/২০২৩ ০৫:৪৯:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহিত
Share
6

মন্টু চৌধুরী, সিলেট

সিলেটে সংখ্যালঘু বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মুক্তাদির হাসান লিমন (২৫) অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যদের চাঁদা দাবির বিরোধিতা এবং সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামলা, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়ে আসছেন।


ভুক্তভোগী লিমন জানান, বন্দরবাজারের করিমউল্লাহ মার্কেটে তাঁর “শাহজালাল মোবাইল গ্যালারি”নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২২ সালের শুরু থেকে স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত নেতাদের অনুসারীরা, বিশেষ করে ছাত্রলীগ নেতা রাহেল সিরাজ ও আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের অনুসারীরা, বিভিন্ন অজুহাতে নিয়মিত চাঁদা দাবি করতে থাকে এবং একাধিকবার বড় অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর দোকানে ভাঙচুর ও শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটে।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য এবং মায়ের ধর্মীয় পটভূমির কারণে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক বৈষম্য ও অপমানের শিকার হন। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণে উগ্রপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরাও, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী নেতা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও তার অনুসারীরা, তার সংখ্যালঘু পরিচয় ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একাধিকবার হুমকি দেয় এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে।


লিমনের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর একদল দুর্বৃত্ত তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে তিনি আবারও বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেতে থাকেন।


তিনি বলেন, “আমি সংখ্যালঘু বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণে আমাকে সহজ লক্ষ্যবস্তু মনে করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং সংখ্যালঘু কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণেই আমার ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”


নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।


সিলেট প্রতিদিন / HR


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি