সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

দেশে ইংরেজীর পাশাপাশি চলছে হিন্দির আগ্রাসন

  • প্রকাশের সময় : ২১/০২/২০২২ ০৭:৩৩:১০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
10

এনামুল কবীর :: কোন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে নিজের মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে আন্দোলন সংগ্রাম ও আত্মদানের নজির ৫২’র আগে বিশ্বে ছিলনা। এরপরেও তেমন একটা নেই। প্রতিবেশি ভারতের দু’একটি রাজ্যে এমন আন্দোলন সংগঠিত হলেও তার প্রভাব খুব একটা পড়েনি। অথচ বাংলাদেশ ও বাঙালীর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রভাব এতই বেশী যে, পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনেক বছর পর, ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আজ গোটা বিশ্বে আমাদের একুশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। এমনকি খোদ পাকিস্তানেও। তাছাড়াও আমাদের স্বাধীকার আন্দোলনের মূল ভিত্তি হিসাবেও ৫২’র একুশ ফেব্রুয়ারিকেই মানা হয় বরাবর।

এমন গৌরব আর মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও আজো দেশে বাংলার মর্যাদা শতভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভাষা আন্দোলনের পর ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আমাদের উচ্চ আদালতের অধিকাংশ রায় দেয়া হয় ইংরেজীতে। সরকারের বিভিন্ন দফতরের ছোট থেকে বড় কর্তা পর্যন্ত অপ্রয়োজনে ইংরেজীতে চিঠি লিখছেন, আর মুখেতো খই ফুটানই। 

আমাদের চারপাশে এমন অনেক শিক্ষিত মানুষ আছেন যারা কথায় কথায় ইংরেজী আওড়ে নিজেদের শিক্ষাদীক্ষার প্রমাণ দেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান। এতে তাদের স্থান কাল বা পাত্র সম্পর্কে কোন ধারণার প্রয়োজন হয়না। তাদের দেখাদেখি অশিক্ষিত এবং অর্ধশিক্ষিতরাও সেই চেষ্টায় মরিয়া।

এদিকে স্যাটেলাইট টেলিভিশনের যুগ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে হিন্দির আগ্রাসনও দিনে দিনে বাড়তে শুরু করে। এখন মোবাইল আর অন্তর্জালের ভরা যৌবন। এ সময়ে খুব সহজেই বিদেশী বিভিন্ন বিনোদনমূলক চ্যানেল দেখা যায় অনায়াসে। আর মুম্বাই চলচ্চিত্রের দর্শকের অভাব এদেশে কোনকালে কম ছিলনা, নেই এখনো। বরং দিনে দিনে তাদের সংখ্যাটা আরও বাড়ছে। অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে, ইংরেজীর আগ্রাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশে রীতিমতো হিন্দির আগ্রাসনও চলছে।

বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন কথায় কথায় হিন্দির ফুলঝুরি ছুটছে।

বিষয়গুলো নিয়ে এখনো যেসব ভাষা সৈনিক বেঁচে আছেন তারা রীতিমতো হতাশ। যেমন, অধ্যাপক আব্দুল আজিজ। সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, সাধারণ মানুষের কথা  কি বলব, এখনোতো উচ্চ আদালতের অধিকাংশ রায় হচ্ছে ইংরেজীতে। বাংলায় দশ শতাংশও হচ্ছেনা। বিচারকদের মানসিকতাই এক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চাইলে বা ইচ্ছে করলেই সেটি পারেন। কোথাও কোন সমস্যা নেই। কেবল তাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

আর শিশু-কিশোর বা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদেশী ভাষা ব্যবহারের বিষয়েও তিনি হতাশ। বলেন, এটি আসলে সচেতনতা বা আত্মমর্যাদাবোধের ঘাটতির বিষয়টিই প্রমাণ করছে। আমাদের মতো একটা দেশ বা জাতির জন্য তা অত্যন্ত দুঃখের। কারণ, আমরা মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ করেছি, আত্মত্যাগ করেছি। 

তিনি আরও বলেন, সেজন্য সরকারকেই কঠোর হতে হবে। দেশে সুস্থ সংস্কৃতির প্রবেশ উন্মুক্ত রেখে অপসংস্কৃতির প্রবেশ বন্ধে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হতে হবে। ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আমাদের যে গৌরব ও ঐতিহ্য, তা শিশু বয়সেই তাদের সামনে তুলে  ধরতে হবে। তাদের মনে তা গেঁথে দিতে পারলে কখনোই তারা অপসংস্কৃতির দিকে ঝুঁকবেনা।  



সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স