শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

সিলেটের ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে’ থাকছে ভাষা আন্দোলনের স্মারকও

  • প্রকাশের সময় : ২০/০২/২০২২ ১০:০৭:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
9

এনামুল কবীর :: রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সুতিকাগার ছিল সিলেট। সেই আন্দোলন শুরু হয়েছিল দেশভাগের পরপরই। আর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে সিলেটের গোবিন্দচরণ পার্কের ভূমিকা চিরস্মরনীয়। সিলেটের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি, ভাষা সৈনিক প্রফেসর আব্দুল আজিজ ও অধ্যক্ষ মাসউদ খান সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারনে বারবার সেই উত্তাল দিনগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনার স্মৃতিচারনে জানান, সিলেটে ভাষা আন্দোলন শুরু হয় পাকিস্তান জন্মের গোড়ার দিকে।

১৯৪৮ সালের মার্চে তা মাঠে ময়দানে ছড়িয়ে পড়ে। মাঠের সেই আন্দোলনে সিলেটের গোবিন্দচরণ পার্কের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কারণ, সেই দিনগুলোর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল গোবিন্দচরণ পার্ক বা বর্তমান হাসান মার্কেট। আন্দোলন শুরুর দিকে, ১৯৪৮ সালের ২৬ ফেব্রæয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও ১১ মার্চ সারাদেশে ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই কর্মসূচির মধ্যেই ৮ মার্চ তমদ্দুন মজলিশ ও মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে গোবিন্দচরণ পার্কে জনসভার আয়োজন করা হয়। সেই সভা পন্ড করতে হামলা করেন উর্দুওয়ালা মুসলিমের সমর্থকরা। আহত হন মকসুদ নামক এক ভাষা সৈনিক। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বলছে, তিনিই রাষ্ট্রভাষার জন্য প্রথম নির্যাতিত ব্যাক্তি। তিনি ছিলেন সিলেটের আরেক ভাষা সৈনিক বামপন্থী রাজনীতির পুরোধা পীর হবিবের ঘনিষ্ঠ সহচর। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১০ মার্চ প্রতিবাদ সভার আহবান করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

এমন আরো অনেক গৌরবের স্বাক্ষি সিলেটের গোবিন্দচরণ পার্ক। প্রফেসর আব্দুল আজিজ জানান, এখানে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের সময় দুই দেশপ্রেমিক সিপাহীকে ধরে নিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ছিল ব্রিটিশ সরকার। এমনসব গৌরবময় ইতিহাসের স্বাক্ষি মুছে ফেলতে পাক-সরকারের জঘন্য পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ১৯৫৯ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক পাকিস্তানী আলী হাসানের নামে হাসান মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর যুগের পর যুগ এমনকি স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পরেও সেই গোলামী চিহ্ন মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে এসে তা মুছে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হাসান মার্কেট ও লালদীঘি মার্কেট ভেঙে এখানে সিলেট সিটি করপোরেশন ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করছে। সরকার এজন্য বড় বরাদ্দও দিয়েছেন। বর্তমানে এর নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। আর তা করছেন সিলেটেরই এক কৃতিসন্তান, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক, স্থপতি শাকুর মজিদ। এই কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধু চত্বর যেমন থাকবে তেমনি সেই চত্বরে থাকবে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীকী উপস্থাপনা থাকবে।

ভাষা আন্দোলনের শুরুর দিক, ১৯৪৮ সালে এখানে ভাষা আন্দোলন নিয়ে যেসব কর্মসূচি পালন হয়েছিল, তার কোন স্মারক থাকবে কি না জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নম্বরে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, স্থপতি শাকুর মজিদের সাথে তার আলাপ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন এখানে স্বাধীকার আন্দোলনের সিরিজ অব মনুমেন্ট থাকবে। তার আওতায় ভাষা আন্দোলনের বিষয়টিও থাকছে। তবে ১৯৪৮ সালে সিলেটে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার কোন স্মারক থাকবে কি না, তা তিনি পরিষ্কার করেন নি।


সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স