বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

সিলেটে ১৫ দিনেও অধরা মারুফের খুনিরা

  • প্রকাশের সময় : ২০/০২/২০২২ ০৭:১৬:৪০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
75

ষষ্ট ধাপের ইউপি নির্বাচনের দিন গত ৩১ জানুয়ারি সোমবার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণকারী মারুফ আহমদের হত্যাকারীরা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। ঘটনার পনেরো দিন পেরিয়ে গেলেও আসামীরা গ্রেফতার না হওয়াতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নিহত মারুফের পরিবারের সদস্যরা। আসামীরা যেকোন সময় তাদের পরিবারের সদস্যদের উপর আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের প্রত্যেক সদস্য।

নিহত মারুফের চাচা মাসিক বাসিয়া সম্পাদক গীতিকার মোহাম্মদ নওয়াব আলী জানান, মারুফের খুনিরা গ্রেফতার না হওয়াতে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি জানান, তাদের সাথে হামলাকারীদের পূর্বের বিরোধ রয়েছে। হামলাকারীরা পূর্বে দিনে-দুপুরে তাদের বাড়ির সীমানা পিলার তুলে নেয়। তাছাড়া, তারা কবরস্থানের জায়গার মাঠ জরিপের কাগজ থেকে মোঃ ছোয়াব আলী তার চাচার পরিবারের নাম কেটে দেয়। এছাড়াও মোঃ ছোয়াব আলীদের মৌরশি জায়গা তাদের নামে করে নেয়।

তিনি আরও জানান, হামলাকারী সুফি আহমদ ছাত্রলীগ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাগনে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে বেড়ায়। যদিও সংসদ সদস্যের বড় ভাই প্রকাশ্যে বলেছেন, এই এলাকায় তার কোন ভাগনে নেই।

মামলার বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, আসামীরা বর্তমানে এলাকাছাড়া। তাদের ধরতে আমরা বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাদীপক্ষকেও বলেছি কোন তথ্য থাকলে দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য।

এদিকে, মারুফ আহমদের হত্যার ঘটনায় আসামীরা গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবীতে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সভা করছেন এলাকাবাসীসহ নিহত মারুফের সহপাঠীরা।

প্রতিবাদ সভা ও মানবন্ধনে তারা নিহত মারুফের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি সোমবার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটে সদস্য পদে মোঃ ছোয়াব আলী ফুটবল প্রতিকে ১১২ ভোট ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমির আলী তালা প্রতিকে সমান সংখক ভোট পান। একই ওয়ার্ডে মাহমুদুল হাসান রাজু আপেল প্রতিকে ১১০ ভোট পান।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আপেল প্রতিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী মাহমুদুল হাসান রাজু, সুফি আহমদ, ফয়জুল হক, জহুর আলী ও নুরুল আমিনের নেতৃত্বে গুপ্তরগাঁও গ্রামের মোঃ ছোয়াব আলীর বাড়িতে হামলা করা হয়। এতে মোঃ ছোয়াব আলীর ছেলে মারুফ আহমদসহ পরিবারের ৫/৬ জন গুরুতর আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত মারুফ আহমদকে প্রথমে সিলেটে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। সেখানে ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার বেলা একটা আট মিনিটে মারুফ আহমদ মৃত্যুবরণ করেন।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স