মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর সৈনিক শাহ নুর মোহাম্মদের ইন্তেকাল

  • প্রকাশের সময় : ২৬/০১/২০২৬ ১৯:১৪:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
154

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম পশ্চিম পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর সৈনিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শাহ নুর মোহাম্মদ আর নেই। গতকাল সোমবার ভোররাত পৌনে চারটার সময় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ১০৬ বছর। মৃত্যু কালে তিনি ৪ পুত্র ৪কন্যা নাতি নাতনি সহ অসংখ্যগ্রাহী রেখে গেছেন।


মরহুমের জানাজার নামায গতকাল সোমবার বেলা দুইটায় সিলাম পশ্চিম পাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাযে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলাম। জানাজার নামাযে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার বিপুল সংখক মুসল্লী অংশ নেন।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর সৈনিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শাহ নুর মোহাম্মদ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম (মৃত) শাহ নাহার মোহাম্মদ ও (মৃত) অছিরা বিবি।


শাহ নূর মোহাম্মদ ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রয়েল সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের পাঞ্জাবের পিরোজপুর ট্রেনিং একাডেমিতে ইনস্ট্রাক্টর ও হাবিলদার  এবং পরে অনারারি ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে ট্রেনিং শেষে তাকে ইতালিতে বদলি করা হয়। সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। জার্মানরা সে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে। পরে ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকেন।


যুদ্ধ শেষে ব্রিটিশ সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ব্রিটেনে যাওয়ার প্রস্তাব করে। কিন্তু অসুস্থ মায়ের সেবা করার উদ্দেশ্যে সরকারের অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে আসার সময় ব্রিটিশ সরকার তাকে আত্মকর্মসংস্থানের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সম্মাননা সনদ প্রদান করে। তারপর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের শেষে দেশে আসেন। দেশে ফিরে আসার পর শাহ নূর মোহাম্মদ ভারতের আসামে সরকারি ট্রান্সপোর্টে সহকারী স্টোর কিপার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ আগস্ট ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার পর ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে দেওয়ার পর ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির কার্যক্রম আসাম থেকে শিলংয়ে স্থানান্তর করা হলে তিনি সেখানে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে দেশ স্বাধীন হলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি সিলেট জেলা স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।


পরে সেটেলমেন্ট বিভাগের বেঞ্চ সহকারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রসেস সার্ভার হিসেবে যোগদানের পর তাকে বিশ্বনাথে সার্কেল অফিসের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। সেখান থেকেই তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি সিলাম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের মোতোয়ালি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।


শাহ নূর মোহাম্মদ ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সৈনিক হিসেবে ৩৯৪৫ স্টার ইতালি স্টার, ডিফেন্স মেডেল, ওয়ার মেডেল লাভ করেন। আমৃত্যু তিনি ব্রিটিশ আর্মির বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। 


২০১৬ খ্রিস্টব্দের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে জালালাবাদ সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শাহ নূর মোহাম্মদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাছাড়া দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও মিন্টু চৌধুরী তার বাড়িতে এসে তাকে শুভেচ্ছা উপহার দেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক তিনি সংবর্ধনা লাভ করেন।


সিলেট প্রতিদিন / এএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি