হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক দিনমজুরের ঘরে এক ফ্যান আর এক বাতির ব্যবহারের হিসাব দেখিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ধরিয়ে দিয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকার বিল! বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট গ্রামে। দিনমজুর কাজী ছাওধন মিয়ার প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল আসত দুই থেকে তিনশ টাকা। গত জুন মাসেও তার বিল ছিল মাত্র ১০৫ টাকা। অথচ চলতি আগস্ট মাসে তার নামে বিল এসেছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৫ টাকা। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নাকি ব্যবহার করেছেন ১০ হাজার ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। শুধু তাই নয়, বিলম্ব ফি ধরা হয়েছে আরও ৭ হাজার ৫৯৫ টাকা।
কাজী ছাওধন মিয়া বলেন, ‘আমার ঘরে শুধু একটি ফ্যান আর একটি বাতি আছে। এত বড় বিল দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানদের জানিয়েছি এবং দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরছি। তারা বলেছে বিলটা ঠিক করে দেওয়া হবে।’
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিল প্রস্তুতের সময় কম্পিউটারের ত্রুটির কারণে এ বিপত্তি ঘটেছে। বিল প্রস্তুতকারী কর্মচারী ক্ষমা দাশ স্বীকার করেছেন, ‘ইচ্ছে করে নয়, কম্পিউটারের ভুলেই এ ধরনের বিল হয়েছে।’
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দিনমজুর কাজী ছাওধন মিয়ার বিল কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ভুলের কারণে হয়েছে। দায়ী কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তার বিল সংশোধন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ভুল হবে না।’
তবে শুধু ছাওধন মিয়া নন, চলতি আগস্ট মাসে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলার বহু গ্রাহক দ্বিগুণ ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে ভুক্তভোগী হয়েছেন।
দৌলতপুর গ্রামের বদরুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য দুটি মিটার লাগিয়েছি। কিন্তু এখন আগের চেয়ে আরও বেশি বিল আসে।’
আরেক গ্রাহক ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, ‘আগে মাসে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বিল আসত। এবার এসেছে ১ হাজার ৬০০ টাকা।’
কাজল মিয়া নামে আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, ‘প্রতিবেশীর মিটারে ১ হাজার ২২০ ইউনিট দেখালেও বিলে ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ ইউনিট। এভাবেই অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে।’




হবিগঞ্জ প্রতিনিধি



