মো. আব্দাল মিয়া ।। বানিয়াচং-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ রত্না ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে বালুবোঝাই একটি ট্রাক আটকে গেছে। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে ঘটনার পর থেকেই সড়কটি দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এক মুহূর্তে স্থবির হয়ে যায় পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয়রা জানান, সকালে বালুবোঝাই ট্রাকটি ব্রিজের প্রথম অংশে পৌঁছালে হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই ট্রাকটি আটকে যায়। তবে বড় কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় চালক ও তার সহকারী রক্ষা পেয়েছেন। ঘটনার পর ব্রিজের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলের পাশাপাশি দুইটি অ্যাম্বুলেন্সও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীর চিকিৎসাসহ জরুরী প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চালকরা অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক, লরি নিয়ে যাতায়াত করার কারণে আজ আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে । কে কার কথা শুনে। অবহেলার কারণেই আজ এমন ভোগান্তি।”
আরেক যাত্রী আলী হোসেন বলেন, “সকাল থেকে হাজারো মানুষ আটকে আছে। কেউ সময়মতো গন্তব্যে যেতে পারছে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও জরুরী চিকিৎসায় যেতে পারছেনা। পুরো এলাকা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।”
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হুসেন জানান, সরকারি যেকোনো ব্রীজের ধারণ ক্ষমতা থাকে ২০ থেকে ২২ টন। আটকে পড়া বালু বোঝাই ট্রাকটি ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ছিল। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের যান চলাচলের কারণেই ধসের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, আটকে থাকা ট্রাক উদ্ধারের কাজ চলছে। পাশাপাশি দ্রুত বিকল্প পথ তৈরি ও ব্রিজটি সাময়িকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার করতে পুরো একদিন সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত রত্না ব্রিজ পুণঃর্নির্মাণ করতে হবে এবং ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।




বানিয়াচং প্রতিনিধি



