লুৎফর রহমান, বিশ্বনাথ (সিলেট):সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এক মুসলিম মণিপুরি সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, নিপীড়ন ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ দিলোয়ার খাঁন (৩৬) জানান, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি ও দলীয় রাজনীতিতে যোগ না করায় তাঁর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে।
মোঃ দিলোয়ার খাঁন বিশ্বনাথ পৌর এলাকার পুরান বাজারে ‘খান মেটাল কিং’নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে ব্যবসা শুরুর পর পরই স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়মিত মাসিক হারে চাঁদা দিতে দিলোয়ারকে বাধ্য করা হয়। ২০২২ সালে আওয়ামী উলামা লীগের বিশ্বনাথ ইউনিটের যুগ্ম সম্পাদক নুনু মিয়া কারণে অকারণে বিভিন্ন উপলক্ষকে অজুহাত করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন।
২০২২ সালের মার্চ মাসে নুনু মিয়া স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে বাহানা করে পুরান বাজারের প্রত্যেকটি দোকান থেকে ১ লক্ষ টাকা করে চাঁদা দাবি করেছিলেন। এতো মোটা অংকের টাকা চাঁদা দেয়া সম্ভব না বলে পরবর্তীতে তা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হলে, ভুক্ত ভোগী একজন সংখ্যালগু বিধায় কোনো বচসা না করে সেই ৫০ হাজার টাকা চাঁদা পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস পরেই ২০২২ সালের অগাস্ট মাসে আওয়ামী লীগের নেতা জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমান এর মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপনের জন্য দিলোয়ার এর কাছে নুনুর ক্যাডাররা আবার ও ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। এক্ষেত্রে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে সংখ্যালঘু মনিপুরী হিসেবে গালিগালাজ পূর্বক প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। যার কারণে দিলোয়ারকে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্ত ভোগী আরও জানান যে, একই বছরের নভেম্বর মাসে মণিপুরি সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মোঃ দিলোয়ার খাঁন নিজে উপস্থিত থাকাকালীন সময়ে নুনু তার দলবল নিয়ে হামলা চালায় কেননা এই ধরণের অনুষ্ঠান ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী। এরপর তাদের তান্ডবে অনুষ্ঠানটি পন্ড হয়ে যায়।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নুনুর লোকজন আওয়ামী লীগের সিলেট জেলার সভাপতি শফিকুরের ইশারায় দিলোয়ারকে দলীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে দিলোয়ার অস্বীকৃতি জানালে, পরে জুন মাসে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং দিলোয়ার তা দিতে অপরগতা প্রকাশ করেন। এর জের ধরে ১০ই জুলাই তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে দিলোয়ার শহরের বাইরে থাকায় সম্ভাব্য নির্যাতন এর হাত থেকে এই যাত্রায় রক্ষা পান।
এরপর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৩। বিশ্বনাথ বাজার এলাকায় মোঃ দিলোয়ার খাঁনকে ঘটনাস্থলে পেয়ে নুনুর ক্যাডাররা চরম মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করেন। তাঁকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।
মোঃ দিলোয়ার খাঁনের অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তিনি প্রাণনাশের হুমকি পান এবং নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দিতে পারেনি। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের সুশাসন বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃঢ় ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন।




বিশ্বনাথ প্রতিনিধি



