ধুন্ধুমার লড়াইয়ে শেষ হয়েছে এবারের বিপিএল। অষ্টম আসরের ফাইনালে নাটকীয় জয়ে তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ১ রানের হারে চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেলো ফরচুন বরিশালের। শিরোপা জিততে না পারলেও আপন আলোয় উজ্জ্বল বরিশাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাট-বলে পুরো টুর্নামেন্টে সাকিব ছিলেন দুর্দান্ত। টানা পাঁচ ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নজিরও গড়েছেন। বিশ্বের কোনো ধরনের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই টানা পাঁচ ম্যাচসেরা পুরস্কার জয়ের নজির ছিল না। দুরন্ত সাকিব নির্বাচিত হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা।
গোটা আসরে ব্যাট হাতে ২৮৪ রান সংগ্রহ সাকিবের। বল হাতে শিকার ১৬ উইকেট। প্রতিযোগিতার আট আসরে এ নিয়ে চতুর্থবার ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হলেন সাকিব। এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সাকিবের অবস্থান ষষ্ঠ। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় এই বাঁহাতি রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। আসরে ১১ ম্যাচে ৪১৪ রান করে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ইংলিশ ওপেনার উইল জ্যাকস। দ্বিতীয় স্থানে খুলনা টাইগার্সের ক্যারিবীয় ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারের সংগ্রহ ১১ ম্যাচে ৪১০ রান। এ তালিকায় তৃতীয় স্থানে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়া মিনিস্টার ঢাকার ওপেনার তামিম ইকবাল। তিনি ৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ৪০৭ রান। আসরে সেঞ্চুরি পেয়েছেন পৃথক চার ব্যাটার লেন্ডল সিমন্স (১১৬), তামিম ইকবাল (১১১*) ফাফ ডু প্লেসি (১০১), আন্দ্রে ফ্লেচার (১০১*)। আসরে একমাত্র ‘পাঁচ উইকেট’ মোস্তাফিজের। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে চার ওভারের স্পেলে ২৭ রানে পাঁচ উইকেট নেন এ বাঁহাতি পেসার। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির মুকুট পরেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মোস্তাফিজুর রহমান। কুমিল্লাকে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জেতানোর পথে ১১ ম্যাচে ১৯ উইকেট শিকার করেছেন এই বাঁহাতি পেসার। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হলেন তিনি। সবশেষ ২০২০ সালের আসরে রংপুর রেঞ্জার্সের জার্সিতে ১২ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২০ উইকেট। মোস্তাফিজের আগে দুইবার বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয়বারের মতো অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলের শিরোপা জিতলেন ইমরুল কায়েস। ২০১৯ আসরেও তার অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা। মাশরাফির পর দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে একের অধিক শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়েছেন ইমরুল। এছাড়াও এক আসরে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ডও তার। এবারের আসরে ১১ ম্যাচে ১৭টি ক্যাচ তালুবন্দি করেছেন ইমরুল। নন উইকেটরক্ষক ফিল্ডারদের মধ্যে এটিই এক আসরে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড। ২০১৭ সালে খুলনা টাইটান্সের মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১২ ম্যাচে ১৩টি ক্যাচ ধরেছিলেন।
সর্বাধিক রান
উইল জ্যাকস (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স), ১১ ম্যাচে ৪১৪ রান
আন্দ্রে ফ্লেচার (খুলন টাইগার্স), ১১ ম্যাচে ৪১০ রান
তামিম ইকবাল (মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা), ৯ ম্যাচে ৪০৭ রান
কলিন ইনগ্রাম (সিলেট সানরাইজার্স), ৯ ম্যাচে ৩৩৩ রান
ফাফ ডু প্লেসিস (কুমিল্লা ভিক্টেরিয়ান্স), ১১ ম্যাচে ২৯৫ রান।
সর্বাধিক উইকেট
মোস্তাফিজুর রহমান (কুমিল্লা), ১১ ম্যাচে ১৯ উইকেট
ডোয়াইন ব্রাভো (বরিশাল), ১০ ম্যাচে ১৮ উইকেট
সাকিব আল হাসান (বরিশাল) ১১ ম্যাচে ১৬ উইকেট
তানভির ইসলাম (কুমিল্লা), ১২ ম্যাচে ১৬ উইকেট
মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (চট্টগ্রাম), ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট
সর্বাধিক ক্যাচ
ইমরুল কায়েস (কুমিল্লা)- ১১ ম্যাচে ১৭
ফাফ ডু প্লেসি (কুমিল্লা)- ১১ ম্যাচে ৯
ইয়াসির আলী (খুলনা)- ১১ ম্যাচে ৯
শেখ মেহেদী হাসান (খুলনা)- ১১ ম্যাচে ৭
নাজমুল হোসেন শান্ত (বরিশাল)- ১১ ম্যাচে ৭




স্পোর্টস ডেস্ক



