সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ চক্রের দুই নারীসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানে অপহৃত দুই যুবককে উদ্ধার এবং মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া টাকা ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১১এপ্রিল) দুপুরে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত সোয়া ৮টার মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার প্রবাসী বন্ধু মাহফুজ আলীকে (২৫) মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে কৌশলে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয় চক্রের সদস্য আব্দুল জলিল ও জায়েদ আহমদ। তাদের যতরপুর এলাকার 'নবপুষ্প-১১৩' নম্বর বাসার ৫ম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল চক্রের নারী সদস্য জেসমিন আক্তার। পরবর্তীতে মূলহোতা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহাসহ আরও কয়েকজন সেখানে প্রবেশ করে। ভিকটিমদের আটকে রেখে ধারালো চাকু দিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাদের বিবস্ত্র করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চক্রটি।
অভিযুক্তরা ভিকটিমদের কাছ থেকে একটি আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স, বাটন ফোন, রূপার চেইন, ব্রেসলেট এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে ভিকটিমরা বাধ্য হয়ে স্বজনদের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেন।
ভিকটিমদের পরিবারের সন্দেহ হলে তারা কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশনায় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআই আনোয়ারুল ইসলাম পাঠানের নেতৃত্বে একটি দল ১০ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৪টায় ওই বাসায় অভিযান চালায়।
এসময় তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), মো.আব্দুল জলিল (৩০), জেসমিন আক্তার (২২), মো.জায়েদ আহমদ (৩৫) গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে চক্রের আরও ৪-৫ জন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় দণ্ডবিধি এবং পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১৯, তারিখ-১০/০৪/২০২৬) রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



