শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

গোয়াইনঘাটে বিহারি সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ১০/০৭/২০২৩ ১৬:৫৪:০০
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সংগৃহীত
Share
25

মোঃ ইয়াসিন আলী, গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে এক বিহারি সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর নাম মো. আলিম উদ্দিন। তিনি ‘বিসমিল্লাহ কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোস্ট্যাট’ নামের একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার মামা মৌলানা আবু তাহের—যিনি আওয়ামী উলামা লীগের যুগ্ম সম্পাদক—এবং তাহেরের ছেলে গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল হাসান ও তাদের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাঁদা দিতে বাধ্য করছেন। পাশাপাশি তার মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।


মো. আলিম উদ্দিন জানান, তিনি বিহারি সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান। তার বাবা ঢাকার মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পে জন্মগ্রহণ করেন। সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণেই তিনি বিভিন্ন সময় বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।


তার ভাষ্যমতে, ২০২১ সালে বিহারি অধিকার আন্দোলনের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে মারধর ও হুমকি দেন। এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে একাধিকবার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং নগদ অর্থ লুট করা হয়।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মৌলানা আবু তাহেরের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং জমি হস্তান্তর করতে চাপ দেওয়া হয়। মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে সিলেট ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।


৩১ মে ২০২৩ দুপুরে মৃদুল ৮–১০ জন ক্যাডার নিয়ে আলিমের দোকানে এসে আসন্ন নির্বাচনের জন্য ১০ লাখ টাকা চাঁদা ও আবু তাহেরের জন্য  ৫ লাখ টাকার পোস্টার বিনা মূল্যে ছাপানোর দাবি জানায়; এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার উদ্দেশে বেধড়ক মারধর করা হয়, লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে যায় এবং পরে তাকে এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। 


তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার পর একাধিকবার গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করতে হুমকি দেয়।


এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গোয়াইনঘাট থানার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও আইনের সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জরুরি।


সিলেট প্রতিদিন / আরজে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি