সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে লেখক ও সাহিত্যিক, ব্লগার ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখা। সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের গ্রেফতার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পেন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক সামসাদ মোর্তুজা এবং সাধারণ সম্পাদক কবি জাহানারা পারভীনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়, গত ১৪ ডিসেম্বর কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পেন বাংলাদেশ মনে করে, একজন সাংবাদিককে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক এবং পরে এভাবে গ্রেফতার দেখানো অগ্রহণযোগ্য এবং আইনের শাসনের পরিপন্থি।
পেন বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এই ঘটনা সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন ও আইনি হয়রানির একটি বৃহত্তর অংশ। অস্পষ্ট ও কঠোর আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে, যা সাংবাদিক মহলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। এর ফলে মুক্ত চিন্তার পথ রুদ্ধ হচ্ছে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ গঠনমূলক বিতর্ক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আনিস আলমগীরের পেশাগত পরিচয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি মুদ্রণ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দীর্ঘকাল অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তার বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা সর্বজনবিদিত। এই ধরনের স্বাধীন মতামত প্রদান সাংবাদিকতার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত।
বিবৃতিতে পেন বাংলাদেশ অবিলম্বে আনিস আলমগীরের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে দমনে নিরাপত্তা সংস্থা ও আইনের অপব্যবহার বন্ধের জোর আহ্বান জানানো হয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মুক্ত গণমাধ্যমের কোনও বিকল্প নেই বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



