ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনের কাউন্টডাউন। নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে। ফলে প্রার্থীদের প্রচারণা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এবং পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম—সবকিছুই এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোবে। হাতে রয়েছে মাত্র ৬১ দিন।
তফসিল ঘোষণার প্রেক্ষাপট
গত কয়েক মাস ধরে তফসিল ঘোষণার তারিখ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই প্রশ্ন ওঠে—তফসিল কতদিন আগে ঘোষণা করতে হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
অতীতের অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে তফসিল ঘোষণার পর সর্বনিম্ন ৪০ দিন এবং সর্বোচ্চ ৭৮ দিন সময়ের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
• ১৯৭৩ সালে প্রথম নির্বাচন হয় তফসিল ঘোষণার ৬০ দিন পরে।
• ১৯৯০ সালে সর্বোচ্চ ৭৮ দিন পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
• ২০০১ সালে মাত্র ৪২ দিনের মধ্যে ভোট সম্পন্ন হয়।
• সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৮ সালে ৪৬ দিন এবং ২০২৩ সালে ৫৩ দিন পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশাসনিক নির্দেশনা
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এই ৬১ দিনের মধ্যে কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বদলি করার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও জনসমাবেশ
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর অনুমোদনহীন জনসমাবেশ ও আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে মতামত
সংস্কার কমিশনের বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “কারও প্রতি পক্ষপাত না করাটাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এমনকি গণমাধ্যমও যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তবে তা ব্যাহত হবে। পারফেক্ট লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়তো সম্ভব নয়, তবে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, গত তিনটি নির্বাচনে এ ধরনের প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। তবে এবার তা নিশ্চিত করতে না পারার কোনও কারণ নেই।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



