অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক আইন, ২০০৪–এর ২৬(২) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে তা জমা না দেওয়ায় এ মামলা করা হয়।
রোববার সিলেটের একটি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাৎ। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ে সম্পদের তথ্য না দেওয়া এবং সময় বৃদ্ধির আবেদন না করায় কমিশনের অনুমোদনক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা করেন। বিধি অনুযায়ী মামলা তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার বিশ্লেষণে জানা যায়, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে প্রায় আট মাস সিসিকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছিলেন।
দুদকের অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনায় তাঁর নিজ নামে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে থাকা কয়েকটি সম্পত্তির তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এগুলো হলো—ইলফোর্ড, এসেক্সে ৪ হাজার বর্গফুটের একটি বাড়ি, টালউইন স্ট্রিটে ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং কিপলিং ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে মালিকানা। এছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় রাজউক বরাদ্দকৃত পূর্বাচলের পাঁচ কাঠা জমির তথ্যও গোপন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০২২–২৩, ২০২৩–২৪ ও ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮ টাকা। তবে এই সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, তার যথাযথ প্রমাণ বা উৎস পাওয়া যায়নি। পারিবারিক ব্যয় হিসেবে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং মেয়র হিসেবে বেতন ও সম্মানি বাবদ ১০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা গ্রহণযোগ্য হলেও তাঁর মোট অগ্রহণযোগ্য নিট সম্পদ দাঁড়ায় ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮ টাকা, যা অবৈধভাবে অর্জিত—মর্মে দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করতে দুদক কর্মকর্তা তাঁর বাসায় গেলে তা তালাবদ্ধ পান। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বাসার গেটে সাক্ষী রেখে সম্পদ বিবরণীর ফরম টাঙিয়ে নোটিশ জারি করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা জানান, তিনি বর্তমানে ওই ঠিকানায় থাকেন না এবং লন্ডনেই তাঁর স্থায়ী বসবাস ও ব্যবসা রয়েছে।
এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। যা আছে সবই বৈধ, ট্যাক্স দেওয়া। দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর আমি আইনজীবীর মাধ্যমে হিসাব দাখিল করেছি এবং সময় চাওয়া হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে অবৈধ দখলদার ইউনূস সরকার এসব মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা করেছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে মামলা করব।”
দুদক জানায়, মামলার তদন্ত শেষ করে আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



