সিলেট মহানগর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি নাসিম হোসাইনের পদ স্থগিত ছিল। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সহসভাপতি পদে থাকা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে নাসিম হোসাইনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আর পদ ছাড়ছিলেন না। এ নিয়ে দুজনের বিবাদ শেষ পর্যন্ত এতিমখানায় গিয়ে গড়াল।
সভাপতি নাসিম হোসাইনের আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় নগরীর কাজিটুলার মক্তবে এতিমদের নিয়ে দোয়া ও দুপুরের খাওয়ানোর আয়োজন করেছিলেন।
খবরে পেয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে থাকা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী তার অনুগত নেতা-কর্মীদের নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে ব্যানার খুলে নিয়ে নাসিম হোসাইনকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা দুইটায় নগরীর কাজিটুলার মক্তবগলি এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কয়েস লোদী নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এখনও আছেন দাবি করে তাকে না জানিয়ে মহানগর বিএনপির ব্যানার কে সাঁটাল, অনুষ্ঠান কারা আয়োজন করল-এসব বিষয়ে জানতে চান। এ জানতে চাওয়ার সময় ব্যানার খুলে নেওয়া হয়। এ সময় অবশ্য এতিমদের খাওয়ানোয় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। সভাপতি নাসিম হোসাইন ও তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা নীরবেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এতিমদের অনুষ্ঠানে কয়েস লোদীর উপস্থিতি ও তার নির্দেশে ব্যানার খুলে নেওয়াসহ সিনিয়র একজন নেতাকে এভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপিতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আগে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসেইনের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে তার পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু নাসিমের কোনো পদ স্থগিত করেনি বিএনপি। বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে নতুন আরেকটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, ভুলবশত সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে তার দলীয় পদ স্থগিত ছিল না। এ অবস্থায় নাসিম হোসেইন সভাপতি দাবি করছেন এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কয়েস লোদী তা মানতে নারাজ। এ নিয়ে মহানগর বিএনপিতে নতুন করে দুজনের বিবাদ তৈরি হয়। সোমবার সেই বিবাদটি এতিমখানায় গিয়ে গড়াল।
জানতে চাইলে নাসিম হোসাইন বলেন, ‘আমি সভাপতি ছিলাম, এখনো আছি। কারণ আমার পদে এখনো কাউকে দেওয়া হয়নি। আমরা মহানগর বিএনপি থেকে দেশনেত্রীর (খালেদা জিয়া) সুস্থতার জন্য দোয়া ও এতিম বাচ্চাদের খাবারের ব্যবস্থা করি। আমাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠানে কয়েস লোদী এসে বিশৃঙ্খলা করেন। তবে আমরা এই বিশৃঙ্খলায় না জড়িয়ে শিরনি বিতরণ করে চলে আসি। নেত্রীর এই কঠিন সময় কেন এই বিশৃঙ্খলা করলেন তিনি সেটা ভালো বলতে পারবেন।’
তবে কয়েস লোদী এতিমখানায় গিয়ে বিবাদ বা ব্যানার খুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ওই অনুষ্ঠানে ছিলাম না। শেষ মুহূর্তে শিরনি বিতরনের সময় গিয়েছিলাম। উনি (নাসিম হোসাইন) কেন বিশৃঙ্খলার কথা বলছেন সেটা আমি জানি না।’
সভাপতি বনাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব দল আমাকে দিয়েছে। উনার পদ নিয়ে দল থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। দল থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে আমি সেভাবেই কাজ করব।
’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ কাউন্সিলরদের ভোটে মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক পদে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সৈয়দ সাফেক মাহবুব নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিদেশে চলে যান নাসিম হোসেইন। ওই বছরের ১ আগস্ট কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র থেকে ৪ নভেম্বর নাসিম হোসেইনকে বাদ দিয়ে সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে ১৭০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে কয়েস লোদী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।




প্রতিদিন ডেস্ক



