যুক্তরাজ্য প্রবাসী এমএ মালেক। বিএনপি নেতা হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি তার। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতির দায়িত্বপালনের পাশাপাশি স্থান করে নিয়েছেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা কাউন্সিলে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট ৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। সেই লক্ষ্যে শুরু করেছেন প্রচার প্রচারণা। কিন্তু তুলনামূলক ভাবে সেই প্রচারণায় সাড়া কমই পাচ্ছেন।
সবশেষে গত রোববার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার শাহজালাল সারকারখানা এলাকায় শোডাউন করেছেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির সমর্থনে আয়োজিত জনসভায়টির ব্যানারে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন আয়োজক হিসেবে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সেই জনসভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়নি। এমনকি হোয়াটসআ্যাপে এমএ মালেকের মিডিয়া গ্রুপে জনৈক আশিক কর্তৃক প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও স্থানীয় কোন নেতার নাম পাওয়া যায়নি। এটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এম এ মালেকের এই গণসমাবেশে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত কম। এতে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।
একাধিক স্থানীয় নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গণসমাবেশটি পুরোপুরি বহিরাগতদের উপস্থিতিতে সাজানো ছিল। স্থানীয়ভাবে কোন সমন্বয় বা যোগাযোগ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
হোয়াসটঅ্যাপে গ অ গধষরয়ঁব (ঝুষযবঃ চৎবংং) নামে গ্রপে জনৈক আশিক কর্তৃক প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সভায় উপস্থিত ছিলেন- এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন রিপন, সিলেট জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আহাদ কুমকুম, তেতলি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, ১ নং মোল্লারগাও ইউনিয়নের সভাপতি বখতিয়ার আহমেদ ইমরান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহাআলম, তেতলি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক খুসরাজ্জামান, সিলেট জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মিনার হোসেন লিটন প্রমূখ। উপস্থিত নেতাদের অধিকাংশই বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বাসিন্ধা। এই প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কোন নেতাকর্মীর নাম ছিল না।
বিষয়টি নিয়ে জানতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা কাউন্সিলের সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




প্রতিদিন ডেস্ক



