সিলেট মহানগরের শামীমাবাদ এলাকায় একটি সংখ্যালঘু পরিবার চাঁদাবাজি, হুমকি ও সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। রোববার (৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য পুজা মন্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে পুজা জানান, তিনি এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার গীতা রানী হালদারের মেয়ে। তার বাবা তপুন কুমার মন্ডল বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। গীতা রানী তাদের স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে শামীমাবাদের ১৮৩ নম্বর বাড়িতে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। ২০১৩ সালে চার শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন তারা। তবে সম্প্রতি একদল সন্ত্রাসী চক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পুজা।
তার দাবি, চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সুহেল বেগ নামের এক মহিলা ও তার নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী তাদের হয়রানি করতে শুরু করে। সুহেল বেগ দাবি করছেন, গীতা রানীর বাড়ির জমি নাকি তার মালিকানাধীন-যদিও তিনি এ সংক্রান্ত কোনো বৈধ দলিল দেখাতে পারেননি। গীতা রানী মীমাংসার জন্য তার প্রবাসী স্বামীর দেশে ফেরার অপেক্ষার কথা জানালেও তারা কর্ণপাত না করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা না দেওয়ায় ২৮ জুলাই রাত ১টার দিকে সুহেল বেগের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে ফেলে এবং জানালার কাঁচ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এ সময় গীতা রানী কর্মস্থলে থাকলেও ছেলে ও মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। পুলিশে ফোন দিলে টহল দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুজা দাবি করেন, সন্ত্রাসীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে যায়।
পরে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। এমনকি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেও কোনো সহায়তা পাননি তারা। শেষ পর্যন্ত গীতা রানী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে দুটি মামলার আবেদন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুজা মন্ডল বলেন,‘আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ-আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিন।’
পুজা মন্ডল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



