শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

বিশ্বনাথের সুমেল হত্যা , লন্ডন প্রবাসী সাইফুলসহ ৮ জনের ফাঁসি

  • প্রকাশের সময় : ৩০/০৭/২০২৫ ১২:৫৮:১৫
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের সিলেট প্রতিদিন
Share
106

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার স্কুল ছাত্র সুমেল হত্যা মামলায় ৮ আসামীকে ফাঁসীর আদেশ দিয়েছে আদালত। সেই সাথে ৭ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে আদালত। আজ  বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে  সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহীন এই মামলার রায় ঘোষনা করেন।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন  সিলেট জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর  আশিক উদ্দিন।  


এর আগে গত ১৩ জুলাই মামলাটি যুক্তিতর্ক শেষে ৩০জুলাই রায় ঘোষনার দিন ধার্য করা হয়েছিল এবং ঐদিন আদালত ৩০জন আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।


মামলায় ৩২জন আসামিদের মধ্যে এজাহার নামীয় আসামি মামুনুর রশীদ পলাতক এবং প্রধান আসামি সাইফুল আটকের পর থেকে প্রায় পৌনে ৪বছর ধরে জেল হাজতে রয়েছে।


বিশ্বনাথ উপজেলার মৎসের ভান্ডার খ্যাত চাউলধনী হাওরটি প্রায় ২০বছর ধরে একাধিক ভুয়া মৎসজীবি সমিতির নামে লীজ এনে সাইফুল ও তার বাহিনী ৩০টি গ্রামের কৃষকদের রেকডীয় জমি, খাল, নালা, ডুবা জোর পূর্বক দখল করে লীজের শর্ত অমান্য করে বেআইনিভাবে সেচ দিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে এবং গত কয়েক বছরে মিটা পানির মাছের বংশ ও পরিবেশ ধবংস করে দেয়। কৃষকরা বাঁধা আপত্তি করলে তাদেরকে মারপিট, হত্যার হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানী করে আসছিল।


২০২১ সালের ১লা মে সাইফুল ও তার বাহিনী চাউলধনী হাওরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চৈতনগর গ্রামের ইব্রাহিম আলী সিজিল গংদের নিজস্ব রেকডিয় ভুমিতে জোর পূর্বক এক্সভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে। এতে জমির মালিক পক্ষ বাঁধা দিতে চাইলে সশ্রস্ত্র আসামিরা বন্দুক, পাইপগান ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে থানা পুলিশ ও গ্রামে একাধিক বৈঠক করে তাদের উপর হামলা চালায়।


ঘটনার সময় বন্দুকের গুলিতে শাহজালাল হাইস্কুলের ১০শ্রেণীর ছাত্র সুমেল আহমদ শুকুর গুলির আঘাতে তার শরীর ঝাঝরা হয়ে যায় এবং হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। সুমেলের বাবা চাচাসহ ৩ গুলিবিদ্ধ হন। হত্যাকান্ডের পর প্রধান আসামি সাইফুল মোটর সাইকেল যোগে বিশ্বনাথ থানায় প্রবেশ করে ওসির সাথে দেখা করেন। ইতিপূর্বে কয়েক দফা তৎকালীণ ওসি শামিম মুসার সাথে আলাপ করে পূর্ব পরিকল্পনা মতে এ হত্যকান্ড ঘটায়। ঘটনার পর সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজিল বাদী হয়ে ২৭জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামালা (বিশ্বনাথ থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ০৩/০৫/২১ইং, দায়ের করেন)। সিলেটের উপমহা পুলিশ পরিদশক (ডিআইজি) মফিজ উদ্দিন ও সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন এই চাঞ্চল্যকর হত্যার মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


হত্যাকান্ডে সহযোগীতা ও আলামত নষ্ট করার দায়ে ওসি শামিম মুসা ও এসআই নুর ও ফজলুল হককে ক্লোজ করা হয়। তৎকালীন বিশ্বনাথ থানার ওসি দতন্ত রমা প্রসাদ চক্রবর্তী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩২জনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশীট আদালতে দালিখ করেন। মামলায় মোট ২৩জন স্বাক্ষী স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবিদের যুক্তিতর্ক শেষে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। আজ ৩০জুলাই এ মামলার রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়ে হয়েছে বলে বাদিপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছেন।



সিলেট প্রতিদিন / এসএল


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি